মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানে কী ঘটছে?
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস দাবি করেছে, হামলায় একাধিক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছিলেন নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি ও আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডাররা।
ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস নতুন প্রধান হিসেবে আহমেদ ভাহিদির নাম ঘোষণা করেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে ১১টি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই হামলা?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়া। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসের ঘোষণা দেন তিনি। যদিও ইরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মোকাবিলায় এ অভিযান শুরু হয়েছে।
ইরানের জবাব
ইরান পাল্টা হামলায় ইসরায়েলসহ বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডন ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজও হামলার শিকার হয়েছে।
লেবাননভিত্তিক শিয়া গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুড়ে নতুন ফ্রন্ট খুলেছে। এর জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে পাল্টা হামলা চালায়।
অর্থনীতি ও জ্বালানিতে প্রভাব
উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করায় গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বৈশ্বিক তেলের দামও বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে—এ পথ ঝুঁকির মুখে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
নেতৃত্বে পরিবর্তন
খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করেছে তেহরান। নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পড়েছে ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর ওপর। তবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
যুদ্ধ কতদিন?
ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় অভিযান চলতে পারে। একই সুর শোনা গেছে নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা ও জ্বালানি নিরাপত্তা প্রশ্নে এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।








