যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আবার সামরিক হামলা চালালে ইরান তার ইউরেনিয়াম ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকরণ করতে পারে। এই মাত্রাটি একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের সমান- এমনই হুঁশিয়ারি করেছেন ইরানি পার্লামেন্টারি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি।
বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ইরানের পার্লামেন্টে পর্যালোচনার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এক ‘এক্স’ পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকটি হামলার ক্ষেত্রে ইরানের একটি বিকল্প হতে পারে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ।’
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে কোনভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ইউরেনিয়াম মজুত কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি সংরক্ষণস্থলের কাছে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এছাড়া তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি বর্তমানে ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে এবং নতুন করে কোন উত্তেজনা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান আলোচনায় একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে কিছু উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করা এবং কিছু অংশ তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক আলোচনা এখন কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর ইরান ধীরে ধীরে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ১১,০০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যা অস্ত্র-গ্রেডের ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ যত বাড়ে, তা ৯০ শতাংশে পৌঁছানো তত দ্রুত সম্ভব হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরানের বড় অংশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্ভবত ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকরা সেখানে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পাননি। তাই সঠিক পরিমাণ ও অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের হুমকি এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।







