যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবের জবাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে ইরান। বুধবার রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই জবাব পাঠানো হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে জানিয়েছে একটি সূত্র।
সূত্রের দাবি, তেহরান এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ইরানের জবাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-শত্রুপক্ষের হত্যাকাণ্ড ও আগ্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা, ভবিষ্যতে যুদ্ধ যাতে পুনরায় না ঘটে সে নিশ্চয়তা দেওয়া, ক্ষতিপূরণ ও যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এবং এই সংঘাতে অংশ নেওয়া আঞ্চলিক সব পক্ষের জন্য সমন্বিতভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করা।
এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার ‘স্বাভাবিক ও বৈধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিপক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি গ্যারান্টি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এই শর্তগুলো জেনেভায় অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনার দ্বিতীয় দফায় উত্থাপিত দাবির বাইরে অতিরিক্তভাবে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তেহরান।
ইরানের মতে, আলোচনার দাবি আসলে একটি “তৃতীয় প্রতারণা” কৌশল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে—বিশ্বের কাছে শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তি তুলে ধরা, বৈশ্বিক তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভবিষ্যতে দক্ষিণ ইরানে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির জন্য সময় নেওয়া।
সূত্রটি দাবি করে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল নিয়ে ইরানের সন্দেহ ছিল, তবে বর্তমানে সেই সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, অতীতেও আলোচনা চলাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু করেছে এবং এবারও আলোচনার আড়ালে নতুন আগ্রাসনের পথ তৈরি করার চেষ্টা করছে।








