ইরানের বিচার বিভাগ দেশটির চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক কুর্দিশ মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও দাবি করেছিল, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
হেনগাও জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছিল যে তাকে আটক করার কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। পরে বুধবার সংস্থাটি জানায়, সোলতানির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। তবে তার জীবন নিয়ে এখনও গুরুতর ও চলমান উদ্বেগ রয়েছে বলে সতর্ক করেছে তারা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এটি সুসংবাদ। আশা করি, এটি অব্যাহত থাকবে। এর আগে তিনি ইরানকে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বিচার বিভাগ সোলতানির বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশ’ এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে। তবে বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য নয়। তারা বিদেশি কিছু গণমাধ্যমে সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরকে “সম্পূর্ণ বানোয়াট” বলে দাবি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলা নিয়ে জল্পনার মধ্যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তাকে জানিয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড কমছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে হেনগাও বিবিসিকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর সোলতানিকে আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং তার পরিবারও তার বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিল না। সংস্থা ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কাপড়ের দোকানের মালিক সোলতানিকে গত বৃহস্পতিবার তেহরানের পশ্চিমে ফারদিস শহরে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, বিচার বিভাগ দাবি করেছে, শনিবার দাঙ্গার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পার্শ্ববর্তী কারাজ শহরের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে।
ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই গ্রেপ্তার হওয়া “দাঙ্গাকারীদের” দ্রুত বিচার ও শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছেন। বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “যারা রাস্তায় মানুষ হত্যা করেছে বা মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব বিচার ও শাস্তি দেওয়া উচিত। তা না হলে এর প্রভাব একই রকম হবে না।”
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে তেহরানে দোকানিদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের বর্তমান ঢেউ শুরু হয়। পরে তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে।
গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সেবা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমন-পীড়ন চালায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ জন শিশু এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকারের সঙ্গে যুক্ত ১৫৩ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ১৮ হাজার ৪৭০ জন বিক্ষোভকারী।









