দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যেই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে রাষ্ট্রদূতদের সামনে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার ভিডিও প্রদর্শন করে সরকারকে ফাঁসাতে বিক্ষোভের আড়ালে সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরান সরকার।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যম ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই জরুরি বৈঠকে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের একটি বড় স্ক্রিনের সামনে বসানো হয়। এসময় তেহরান দাবি করে, ভিডিওগুলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব যাকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বলছে, তা আসলে সশস্ত্র দাঙ্গা এবং সন্ত্রাসবাদ বলে দাবি করে ইরান।
বৈঠকে ইরানি কর্মকর্তারা ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সতর্ক করে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবিলম্বে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে দেওয়া বিবৃতি প্রত্যাহার করতে হবে এবং যদি তারা তা না করে, তবে ইরান বিষয়টিকে তাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য করবে এবং কঠোর কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে।
রক্তপাত সৃষ্টি করাই এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “দাঙ্গাবাজরা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে।”
সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
তবে ইরান সরকারের দাবি, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যও রয়েছেন যারা বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার।
রাষ্ট্রদূতদের এই নজিরবিহীন তলব এবং ভিডিও দেখানোর ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইরান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে। একদিকে রাজপথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের নিন্দা—এই দুইয়ের মাঝে তেহরান এখন কঠোর দমনের নীতি গ্রহণ করেছে।








