যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও ইরান আরও তিন থেকে চার মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে সক্ষম বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পাঠানো এক গোপন মূল্যায়নে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নেই। বরং কঠোর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে ৯০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বিমান হামলার পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। দেশটির হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল উৎক্ষেপণযান রয়েছে।
এই মূল্যায়ন ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ওভাল অফিসে দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের হাতে আগের তুলনায় মাত্র ১৮ থেকে ১৯ শতাংশ অস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, ইরানের প্রায় ৭৫ শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এখনো অক্ষত রয়েছে। এছাড়া দেশটি তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র গুদামগুলোর বেশিরভাগই পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক কাঠামো গুরুতরভাবে দুর্বল হয়েছে। তবে বিভিন্ন পাল্টা হামলার মাধ্যমে ইরান দেখিয়েছে যে তাদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ প্রবেশের প্রচেষ্টার জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার দাবিও করেছে, যদিও হোয়াইট হাউস তা অস্বীকার করেছে।ইরানের তেল অবকাঠামো নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী অবস্থান দেখাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দেশটির তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে এবং অতিরিক্ত চাপ পুরনো জ্বালানি অবকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তবে গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান কেবল হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশটির সঙ্গে কাস্পিয়ান সাগর ঘিরে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া ও আজারবাইজানের সংযোগ রয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুরস্ক, ইরাক, আর্মেনিয়া ও মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত থাকায় বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে।







