প্রতি বছরই ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরুর আগে নিলাম হয়। তিন বছর পরপর হয় মেগা নিলাম। ২০২৫ আইপিএল শুরুর আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় রোববার বিকেলে বসছে মেগা নিলাম, চলবে সোমবারও। আসন্ন আসরে ৫৭৭ ক্রিকেটার বিক্রি হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। বিপরীতে ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি নামছে ৬৪১ কোটি ৫০ লাখ রুপি নিয়ে।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে নিলাম। যার জন্য আগে থেকেই আইপিএলের সাজ ধারণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় শহরটি।
আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন মোট ১৫৭৪ জন খেলোয়াড়। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহের ভিত্তিতে শেষপর্যন্ত নিলামে জায়গা পেয়েছেন ৫৭৫ জন। ৩৬৬ জন ভারতীয়, ২০৯ জন বিদেশি। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে ৪৮ জনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে (ক্যাপড), ৩১৮ জন এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় (আনক্যাপড)। আইসিসির সহযোগী দেশগুলো থেকে ৩ জন উঠবেন নিলামে।
বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশি ইংল্যান্ডের, ৩৮ জন। অস্ট্রেলিয়ার ৩৭ জন। সাউথ আফ্রিকার আছেন ৩১, নিউজিল্যান্ডের ২৪, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২২, শ্রীলঙ্কার ১৯, আফগানিস্তানের ১৮, বাংলাদেশের ১২, জিম্বাবুয়ের ৩, আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন করে এবং স্কটল্যান্ডের ১ জন।
আসরে অংশ নিতে চলা ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ২০৪ জন ক্রিকেটারকে নিতে পারবে। বিদেশিদের জন্য ৭০টি জায়গা ফাঁকা আছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো অনেক তারকা ক্রিকেটারকেই আগে থেকে রিটেইন(ধরে রাখা) করে রেখেছে। একটা দল সর্বোচ্চ ১২০ কোটি ভারতীয় রুপি খরচ করতে পারবে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আগেই চুক্তিবদ্ধ ৫ জন খেলোয়াড়কে ধরে রেখেছে, যাদের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ৭৫ কোটি রুপি খরচ হয়ে গেছে। অন্তত ১৮ জনের স্কোয়াড গঠন করতে হলে মুম্বাইকে বাকি ৪৫ কোটি রুপি দিয়ে আরও ১৩ জন খেলোয়াড় কিনতে হবে।
রিটেনশন পর্ব শেষ হয়েছে ৩১ অক্টোবর। প্রতিটি দল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২-৬ জন ক্রিকেটারকে ধরে রেখেছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলে সর্বোচ্চ ২৫ ও সর্বনিম্ন ১৮ জনের দল তৈরি করতে পারবে। আইপিএলের ১০টি দল মিলিয়ে ৪৬ জন ক্রিকেটারকে আগামী তিন মৌসুমের জন্য রেখে দিয়েছে। আগামী তিন বছরের জন্য দল সাজাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
যেসব খেলোয়াড় ধরে রেখেছে দলগুলো
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: জাসপ্রীত বুমরাহ (১৮ কোটি), সূর্যকুমার যাদব (১৬.৩৫), হার্দিক পান্ডিয়া (১৬.৩৫), রোহিত শর্মা (১৬.৩০), তিলক ভার্মা (৮ কোটি)।
চেন্নাই সুপার কিংস: ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (১৮ কোটি), মাথিশা পাথিরানা (১৩ কোটি), শিভম দুবে (১২ কোটি), রবীন্দ্র জাদেজা (১৮ কোটি), মহেন্দ্র সিং ধোনি (৪ কোটি)।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: বিরাট কোহলি (২১ কোটি), রজত পাতিদার (১১ কোটি), যশ দয়াল (৫ কোটি)।
দিল্লি ক্যাপিটালস: অক্ষর প্যাটেল (১৬.৫ কোটি), কুলদীপ যাদব (১৩.২৫ কোটি), স্ত্রিস্তান স্টাবস (১০ কোটি), অভিষেক পোরেল (৪ কোটি)।
কলকাতা নাইট রাইডার্স: রিংকু সিং (১৩ কোটি), বরুণ চক্রবর্তী (১২ কোটি), সুনীল নারিন (১২ কোটি), আন্দ্রে রাসেল (১২ কোটি), হর্ষিত রানা (৪ কোটি), রমনদীপ সিং (৪ কোটি)।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস: নিকোলাস পুরান (২১ কোটি), রবি বিষ্ণোই (১১ কোটি), মায়াঙ্ক যাদব (১১ কোটি), মহসিন খান (৪ কোটি), আয়ুশ বাদোনি (৪ কোটি)।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ: প্যাট কামিন্স (১৮ কোটি), অভিষেক শর্মা (১৪ কোটি), নীতিশ রেড্ডি (৬ কোটি), হেইনরিখ ক্লাসেন (২৩ কোটি), ট্র্যাভিস হেড (১৪ কোটি)।
গুজরাট টাইটানস: রশিদ খান (১৮ কোটি), শুভমন গিল (১৬.৫ কোটি), সাই সুদর্শন (৮.৫ কোটি), রাহুল তেওয়াতিয়া (৪ কোটি), শাহরুখ খান (৪ কোটি)।
পাঞ্জাব কিংস: শশাঙ্ক সিং (৫.৫ কোটি), প্রভসিমরন সিং (৪ কোটি)।
রাজস্থান রয়্যালস: সঞ্জু স্যামসন (১৮ কোটি), যশস্বী জয়সওয়াল (১৮ কোটি), রিয়ান পরাগ (১৪ কোটি), ধ্রুব জুরেল (১৪ কোটি), শিমরন হেটমায়ার (১১ কোটি), সন্দীপ শর্মা (৪ কোটি)।
প্রতি তিনবছর পর আইপিএলের মেগা নিলাম হয়। বৃহৎ এই নিলাম হয়ে থাকে দু’দিন ব্যাপী। এরমাঝের দুবছর হয় মিনি নিলাম। গত আসরে মিনি নিলাম হলেও আইপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছিল। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিদেশের মাটিতে হচ্ছে আইপিএলের নিলাম। ২০২৪-এর নিলাম হয়েছিল দুবাইয়ে।
নিলামের শুরুতে ডাকা হবে মার্কি খেলোয়াড়দের। দলগুলোর আগ্রহের ভিত্তিতে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়ের এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিলামে দুই সেটে থাকবেন মার্কি খেলোয়াড়রা, প্রতি সেটে ৬ জন করে। এরপর পর্যায়ক্রমে ডাকা হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ব্যাটার, অলরাউন্ডার, উইকেটকিপার-ব্যাটার, ফাস্ট বোলার, স্পিনার- এসব ক্যাটাগরি থেকে।
নিলামের তালিকায় থাকা আনক্যাপড (অনভিষিক্ত) খেলোয়াড়দেরও একইভাবে ক্যাটাগরির ভিত্তিতে ডাকা হবে। পরে ৫৭৭ জনের নিলাম শেষ হলে দলগুলো অবিক্রীত খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়ের একটা তালিকা দেবে। সেই তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের আবারও নিলামে তোলা হবে।
বাংলাদেশের ১২ জন উঠছেন এবারের আইপিএল নিলামে। ২০১১ আসর থেকে ৯ মৌসুম খেলা সাকিব আল হাসান, ২০১৬ থেকে নিয়মিত মুখ মোস্তাফিজুর রহমান, ২০২৩ সালে কলকাতার হয়ে এক ম্যাচে নামা লিটন দাস আছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরও আছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, পেসার তাসকিন আহমেদ, লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়, পেসার শরিফুল ইসলাম, পেসার তানজিম হাসান, অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান, পেসার হাসান মাহমুদ ও পেসার নাহিদ রানা।
এবারের নিলামে মোস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য টাইগারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ২ কোটি রুপি। অভিজ্ঞ সাকিব ও তাসকিন-মিরাজের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১ কোটি রুপি। নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা বাংলাদেশের বাকিরা- রিশাদ, লিটন, হৃদয়, শরিফুল, তানজিম, শেখ মেহেদী, হাসান ও নাহিদের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ রুপি। বাংলাদেশ থেকে ১৩ ক্রিকেটার নিবন্ধন করিয়েছিলেন।








