থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কম্বোডিয়ার সাবেক এমপি ৭৩ বছর বয়সী লিম কিময়াকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোন দেশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আজ (৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার বিবিসি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের পর সিএনআরপি নেতা কেম সোখার কন্যা মনোভিথ্যা কেম দাবি করেছেন যে, কেবল কম্বোডিয়া রাষ্ট্রই তাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এছাড়াও হত্যাটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
লিম কিময়া ছিলেন কম্বোডিয়া সরকারের সমালোচক এবং বিরোধী দল সিএনআরপি’র একজন বিশিষ্ট নেতা। ২০১৭ সালে সিএনআরপি দলটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়ে গেলে, তিনি চরমভাবে নিপীড়িত হন। তবুও তিনি তার দেশেই থেকে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরাসি স্ত্রীর সঙ্গে কম্বোডিয়ার সিম রিপ থেকে একটি বাসে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছানোর পরপরই তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, হামলাকারী প্রথমে তার মোটরবাইক পার্ক করে, হেলমেট খুলে। তখন তার মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। তারপর তিনি রাস্তায় ক্রমাগত হাঁটতে থাকেন। কিছু সময় পর গুলি চালানোর শব্দ শোনা যায় এবং লিম কিময়া মাটিতে পড়ে যান। হত্যাকারী তার হাত থেকে কিছু সরঞ্জাম ফেলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা মনে করছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি কেবল কম্বোডিয়ায় নয়, পুরো মেকং অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। থাইল্যান্ডের নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সরকারগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক আশ্রিতদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলো থাইল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত করে এবং হত্যাকারীদের শাস্তি প্রদান করে। থাইল্যান্ড ২০২৫ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে, তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কর্তব্য পালনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশটি।







