ফিলিস্তিনি সংগ্রামী সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানানোর লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মী, মিডিয়াকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টরা সমবেত হয়ে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে নীরবতা পালন করেছেন।
বিগত ৫ মাসে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধে নিহত ও নিখোঁজ সাংবাদিকদের নামসহ ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেছেন।
পশ্চিমা রাষ্ট্রের মদদে ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ এবং ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে প্যালেস্টানিয়ান জার্নালিস্ট সিন্ডিকেট (পিজেএস), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে), আরব সাংবাদিকদের ফেডারেশন (এএফজে) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-কে ফিলিস্তানি সাংবাদিকদের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার গোলচত্বরের সার্ক ফোয়ারায়, সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকায় কর্মরত সংবাদকর্মী ও মিডিয়াকর্মীরা আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস পালন করেছেন।
আয়োজকরা জানান, ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী গাজায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি গণহত্যায় এ পর্যন্ত ১৩২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে নিহত ও নিখোঁজ সাংবাদিকের সংখ্যা শতাধিক। গাজা উপত্যকায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারকেও টার্গেট করা হয়েছে এবং এরইমধ্যে অনেক সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা হুমকি, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও গবেষক ড. সায়দিয়া গুলরুখ বলেন, ফিলিস্তিনের সাংবাদিকরা অসীম সাহস দেখে সারা বিশ্ব তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশের সাংবাদিক হিসেবে আমরাও তাদের সাহস ও সংগ্রামের সাথে সংহতি জানাই।
গাজায় সংঘটিত ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ সমূহের একটি হলো যুদ্ধ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালানো। সাংবাদিক হিসেবে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।
ড. গুলরুখ আরও বলেন, একইসঙ্গে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে সিলেক্টিভ কমিটমেন্টকে আমরা প্রশ্ন করতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক রাষ্ট্র যারা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাংবাদিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনায় সোচ্চার, তাদেরকে আমরা গাজায় সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ নিয়ে সোচ্চার হতে দেখি না।
যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রগুলোর এই দ্বিচারিতার প্রতিবাদ করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। একই ধরনের দ্বিচারিতা আমরা বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। একদিকে গাজার যুদ্ধের প্রতিবাদ করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের মতো হীন দেশ থেকে থার্ড পার্টির মাধ্যমে নজরদারি ও আড়িপাতার যন্ত্র কিনে সেগুলো মানুষের মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। আমরাও তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বলতে চাই একদিন ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে, এবং বাংলাদেশও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হবে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, এটি খুব স্পষ্ট যে পশ্চিমা মদদে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে আরব বিশ্বের ভূমিকাও অত্যন্ত নিন্দাজনক। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ফিলিস্তিনের সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও সকল বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দাবি করছি।
আয়োজনে অংশ নেয়া সাংবাদিকরা বলেন, ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের সাহস আমাদের অনুপ্রাণিত করে। একইসঙ্গে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের ময়দানে কর্মরত সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দাবি তুলেছেন।








