বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ হয়নি এবং এটি মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মিশন।
তারা বলেছে, এর মধ্যে সভা-সমাবেশ, আন্দোলনের স্বাধীনতার মতো নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের কিছু অপরিহার্য বিষয় সীমাবদ্ধ ছিল। বিচারিক কার্যক্রম এবং গণগ্রেপ্তারের কারণে বিরোধী দলগুলোর কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল।
প্রতিবেনে বলা হয়, প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নির্বাচন বয়কটের কারণে প্রতিযোগিতার অভাব ছিল এবং ভোটাররা গণতান্ত্রিক অধিকার পুরোপুরি প্রয়োগ করার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চুক্তি এবং আওয়ামী লীগের নিজস্ব প্রার্থী ও দলের সঙ্গে যুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা পদ্ধতি ভোটারদের প্রকৃত পছন্দের প্রতিফলন ঘটেনি।
এছাড়া গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের পরিবেশ বাক-স্বাধীনতা এবং সমালোচনামূলক পাবলিক বিতর্কের জন্য অনুকূল ছিল না বলেও মন্তব্য করা হয়।
বিরোধীরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন পরিচালনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছিল, যা অসাংবিধানিক বলে প্রত্যাখ্যাত হয়। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো সক্ষমতা বিএনপির ছিল না। কারণ দলটির প্রায় সব জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বকে কারাবন্দি হয়।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেকোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঠেকাতে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন ব্যাপকভাবে একটি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে তারা।
প্রতিবেদনে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সুপারিশ করেছে ইইউ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ সহ সংসদীয় সম্পর্কিত সমস্ত আইন, প্রবিধান এবং বিধিগুলোর একটি ব্যাপক পর্যালোচনা- যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের আইনি নিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার বোর্ড নিয়োগের ব্যবস্থা যোগ্যতাভিত্তিক ও স্বাধীন নিয়োগের মাধ্যমে হওয়া উচিত বলেও মনে করে তারা। এছাড়াও সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট, ২০২৩-এর বিধানগুলোর পর্যালোচনার সুপারিশও করা হয়েছে।







