ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবাবো সুবিয়ান্তো দেশজুড়ে প্রাণঘাতী আন্দোলনের পর মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তিনি একসঙ্গে ৫ জন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানী ইন্দ্রাবতী।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন।
সংসদের ব্যয়বহুল সুবিধা ও সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট উপেক্ষা করাকে কেন্দ্র করে আগস্টের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়।
পদচ্যুত মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানী ইন্দ্রাবতী, রাজনীতি ও নিরাপত্তা সমন্বয় মন্ত্রী বুদি গুনাবান, সমবায় মন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী। প্রেসিডেন্ট প্রবাবো নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও ইন্দোনেশিয়া ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পুরবায়া যুধি সদেওয়াকে।
৬১ বছর বয়সী সদেওয়া জানান, তার লক্ষ্য হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা ও সরকারের ব্যয় কার্যকর করা।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, যখন জানা যায়, সংসদের ৫৮০ জন সদস্য প্রতিমাসে ৫০ মিলিয়ন রুপিয়াহ (প্রায় ৩ হাজার ৭৫ ডলার) বাসাভাড়া ভাতা পাচ্ছেন। যা রাজধানী জাকার্তার ন্যূনতম মজুরির প্রায় ১০ গুণ।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ দিনের আন্দোলনে ১০ জন নিহত হন, যদিও পুলিশের দাবি মৃতের সংখ্যা ৭।
একজন ২১ বছর বয়সী মোটরসাইকেল ডেলিভারি চালক কুরনিয়াওয়ানের মৃত্যু এই আন্দোলনে আগুন লাগায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সাঁজোয়া পুলিশ গাড়ি বিক্ষোভকারীদের মাঝখান দিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যাওয়ায় তিনি নিহত হন।
উচ্চ বেকারত্বের কারণে অনেক যুবক খণ্ডকালীন ডেলিভারি বা রাইড শেয়ারিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় যুক্ত। কুরনিয়াওয়ানের মৃত্যু আরও হাজারো তরুণকে রাস্তায় নামিয়ে আনে।
প্রেসিডেন্ট প্রবাবো প্রথমে আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নিতে বলেন। তিনি বিক্ষোভে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসের’ ইঙ্গিত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
তবে সরকারবিরোধী এই আন্দোলন থামেনি। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ও নেতাদের বাড়িতেও হামলা চালান। এমনকি ৩১ আগস্ট বরখাস্ত হওয়া অর্থমন্ত্রী শ্রী মুলিয়ানীর বাসভবনেও বিক্ষোভ হয়।
শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট প্রবাবো সংসদ সদস্যদের বাসাভাড়া ভাতা ও বিদেশ সফরের অধিকাংশ সুবিধা বাতিল করেন। এর ফলে দেশজুড়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।







