দীর্ঘ দেড় মাস ভোট গ্রহণের পর গত ১ জুন শেষ হয়েছে লোকসভা নির্বাচন যার ফল প্রকাশ হবে আজ। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সর্বপ্রথম পোস্টাল ভোট প্রথমে গণনা করা হবে। তবে সবাই এই পোস্টাল পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারেন না, এটি শুধুমাত্র কিছু বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য এই ভোটগ্রহণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যেমন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এবং প্রথমবারের মতো নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদেরা।
বিশ্বের প্রাচীনতম শহর হিসাবে পরিচিত বানারাস থেকে তৃতীয় মেয়াদে ভারতের ক্ষমতার অধিকারী হতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নরেন্দ্র মোদি।
লোকসভা নির্বাচনে এবার যেই দল গুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে,
- বিজেপি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল “ভারতীয় জনতা পার্টি”।
- ভারত: একসময়ের প্রভাবশালী কংগ্রেস দলসহ বিরোধী দলগুলোর একটি জোট “ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স”।
- এনডিএ: বিজেপির নেতৃত্বে দলগুলোর একটি জোট “ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স”।
এগুলো ছাড়াও অনেক আঞ্চলিক দলও যেমন, দিল্লি এবং পাঞ্জাবের ক্ষমতায় থাকা “আম আদমি পার্টি” এবং পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থেকে “তৃণমূল কংগ্রেস” লোকসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।
ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ ৫৪৩ আসন বিশিষ্ট লোকসভার জন্য ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। যে দল বা জোট ২৭২ বা তার বেশি আসন পাবে, তারা দেশের পরবর্তী সরকার গঠন করবে। ধারণা করা হচ্ছে, এনডিএ ৬৫ শতাংশ আসন পাবে।
অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে থাকা কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, তাদের জোট ২৯৫ বা তার কাছাকাছি আসন পাবেন বলে তাদের ধারণা। সরকার গঠনের জন্য দরকার অন্তত ২৭২টি আসন।
একসময়ের প্রভাবশালী কংগ্রেসসহ দুই ডজনেরও বেশি বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স জোটের (ইন্ডিয়া) সাথে যুক্ত হয়েছে। তারাই সারা ভারতে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সেই হিসেবে, জয়ী হলে বেশির ভাগ আসন কংগ্রেসেরই পাওয়ার কথা।
কংগ্রেস যদি সর্বাধিক আসনে জয় পায়, সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধী আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে বিগত ১০ বছরের মোদি শাসনামল তাকে বুদ্ধি, কৌশল ও অভিজ্ঞতায় একজন পোড়খাওয়া নেতায় পরিণত করেছে। তার জনপ্রিয়তাও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।








