অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শনাক্তে ভাষাভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল তৈরিতে আইআইটি-বম্বের সঙ্গে কাজ করছে ভারতের মহারাষ্ট্র সরকার। প্রকল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সন্দেহভাজনদের বক্তব্যের ধরণ, স্বর ও ভাষা ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে পরিচয় নির্ধারণে এই টুল সহায়তা করবে।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ৩ কোটি রুপি ব্যয়ে টুলটি তৈরি করছে। কর্মকর্তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় এটি ব্যবহার করবে। তবে চূড়ান্তভাবে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা হবে নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে।
গত ১১ জানুয়ারি মহাযুতি জোটের ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস বলেন, আমরা মুম্বাইকে বাংলাদেশিমুক্ত করব। ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এআইয়ের মাধ্যমে শতভাগ বাংলাদেশিকে শনাক্ত করে বহিষ্কার করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ (সাবেক পূর্ববঙ্গ) ভাষাগতভাবে একই অঞ্চলের অংশ হওয়ায় উপভাষা, উচ্চারণ, শব্দভাণ্ডার ও উচ্চারণে ব্যাপক মিল রয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের অনেক বাঙালির কথাবার্তা বাইরের লোকদের কাছে ‘বাংলাদেশি’ মনে হতে পারে। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদা এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এ মিল আরও বেশি।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এই এআই সিস্টেম উচ্চারণ, স্বর ও শব্দচয়নসহ নির্দিষ্ট ভাষাগত সূচক ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বাঙালি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারবে।
এআই টুলে যদি কোনো ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নয় বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পরবর্তী তদন্তে যাবে। বর্তমানে টুলটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।








