যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশি কোম্পানিগুলোকে দেশটির ভেতরে কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করাই এই নীতির উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ ভারত।
আজ (২২ জুলাই) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হবে। তবে শুরুতেই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে না। প্রথম দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব জেনেরিক ওষুধের ওপর শুল্কহার শূন্য শতাংশ থাকবে। এরপর তৃতীয় বছরে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন ফিরিয়ে আনাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব বিদেশি ওষুধ কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে না, তাদের জন্য এই শুল্ক কার্যত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। তবে পেটেন্ট, ব্র্যান্ডেড ও উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
বিশ্ববাজারে জেনেরিক ওষুধ সরবরাহে শীর্ষস্থানীয় হওয়ায় ভারতকে প্রায়ই ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই ভারতীয় কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে। ফলে ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি ভারতীয় ওষুধশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করেছে। এটি ওই সময়ে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক ওষুধ রপ্তানির প্রায় ৩৮ শতাংশ।
তবে নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, শুল্ক কার্যকরের আগে দুই বছরের একটি ছাড়ের সময় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে কোম্পানিগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের সুযোগ পাবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে জেনেরিক ওষুধ ও এর কাঁচামাল নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুবিধাজনক সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল। নতুন শুল্কনীতি সেই সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এর আগেও ট্রাম্প ওষুধ আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তখনও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমূল্যের জেনেরিক ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।







