প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে নেওয়া একটি ঋণ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। তাদের দাবি, ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সেহোরের ধনী ব্যবসায়ী শেঠ জুম্মাল রুথিয়ার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল, যা আজও পরিশোধ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
মধ্যপ্রদেশের ভোপাল ও সেহোর অঞ্চলে একসময় রুথিয়া পরিবার ছিল অন্যতম প্রভাবশালী ও বিত্তশালী পরিবার। পারিবারিক সূত্রের দাবি, যুদ্ধকালীন প্রশাসনিক প্রয়োজন মেটাতে ওই অর্থ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এবং নথিতে এটিকে ‘যুদ্ধ ঋণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শেঠ জুম্মাল রুথিয়ার নাতি বিবেক রুথিয়া জানান, সম্প্রতি তারা পুরোনো দলিলপত্র ঘাটতে গিয়ে ঋণের প্রমাণসংবলিত গুরুত্বপূর্ণ নথি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সার্টিফিকেট, চিঠিপত্র এবং একটি পারিবারিক উইল। তার ভাষ্য মতে, ১৯১৭ সালে আমার দাদা ব্রিটিশ সরকারকে ৩৫ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। সেই অর্থ আজও শোধ করা হয়নি। পরিবারের দাবি, ঋণ দেওয়ার প্রায় ২০ বছর পর ১৯৩৭ সালে শেঠ জুম্মাল রুথিয়া মারা যান। এরপর বিষয়টি অমীমাংসিত অবস্থায় ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। তবে বর্তমান প্রজন্ম এটিকে একটি ‘ঐতিহাসিক ও অনাদায়ী সার্বভৌম ঋণ’ হিসেবে দেখছে এবং তা পুনরুদ্ধারে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিবেক রুথিয়ার মতে, ১৯১৭ সালের ৩৫ হাজার টাকা বর্তমান বাজারমূল্যে বিশাল অঙ্কে পৌছাতে পারে। সে সময়ের সোনার দামের সঙ্গে বর্তমান দামের তুলনা করলে এর মূল্য কোটি কোটি টাকায় দাড়াতে পারে বলে তার দাবি। পরিবারটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ব্রিটিশ সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের যুক্তি, সার্বভৌম রাষ্ট্র পূর্বে গ্রহণ করা ঋণ পরিশোধে তাত্ত্বিকভাবে বাধ্য।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দাবি অত্যন্ত জটিল এবং বিরল। বিশেষ করে স্বাধীনতার আগে ঔপনিবেশিক প্রশাসন ও ব্যক্তিগত ব্যবসায়ীদের মধ্যে হওয়া আর্থিক লেনদেন নিয়ে বর্তমান রাষ্ট্রের দায় নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। তবে প্রামাণ্য নথি থাকলে বিষয়টি একটি ব্যতিক্রমী আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার আগে রুথিয়া পরিবার সেহোর ও ভোপাল অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী জমিদার ও ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের মতে, সেহোর শহরের উল্লেখযোগ্য অংশ একসময় তাদের মালিকানাধীন জমির ওপর গড়ে ওঠে। বর্তমানে পরিবারটি সেহোর, ইন্দোর ও ভোপালে সম্পত্তির মালিক এবং কৃষি, আতিথেয়তা ও রিয়েল এস্টেট খাতে সম্পৃক্ত।








