২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে শিরোপা উদযাপনে মেতেছিল ভারত। পরে কেটে গেছে দীর্ঘ ১৭ বছর। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বৈশ্বিক ইভেন্টের প্রতিটিতে খেলেছেন রোহিত শর্মা। টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক ট্রফি খরা ভাঙার চেষ্টায় দলকে চাপ সামলানোর বার্তা দিলে রাখলেন।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৯ বলে ৫৭ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন রোহিত। তৃতীয় উইকেটে সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে গড়েছেন ৭৩ রানের মূল্যবান জুটি। অনায়াসে জিতলেও হাইভোল্টেজ ম্যাচে সতীর্থদের শান্ত থাকার প্রশংসা করেছেন। ফাইনালের আগে এমন থাকা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন হিটম্যানখ্যাত তারকা ব্যাটার।
‘আমরা একটা দল হিসাবে খুব শান্ত মেজাজে ছিলাম। ফাইনালের উপলক্ষটা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি, তবে আমাদের শান্ত এবং সংযত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। এমন থাকাটা আমাদের ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। ৪০ ওভারের ভেতর উত্তম সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেমিতেও আমরা স্থির এবং শান্ত ছিলাম, খুব বেশি আতঙ্কিত হইনি। এটাই আমাদের জন্য মূল বিষয়। ফাইনালের উপলক্ষ গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের ভালো ক্রিকেটও খেলতে হবে।’
ভারতকে অ্যাডিলেডের দুঃসহ স্মৃতি উপহার দিতে চেয়েছিল ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২২ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিতে ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে শোচনীয় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল তারা। আইপিএলের দেশ হয়ে প্রথম আসরের পর ট্রফি জয়ের স্বাদ না পাওয়া নিয়ে চলে ব্যাপক সমালোচনা। দুবছর পর ভারতের স্পিনাররা ঘোরালেন ছড়ি। মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ৬৮ রানের বড় ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট। এমন জয় দলের জন্য সন্তোষজনক বলছেন রোহিত।
‘আমরা এ পর্যায়ে আসার জন্য সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করেছি। এমন খেলায় জেতার জন্য সবার দুর্দান্ত প্রচেষ্টা ছিল। ভেবেছিলাম আমরা আসলেই ভালো কন্ডিশনে খেলেছি, এটাই আপাতত আমাদের সাফল্যের গল্প। যদি বোলার এবং ব্যাটাররা বুঝে কন্ডিশন অনুযায়ী খেলতে পারে, এটা খুবই আনন্দদায়ক। আমরা এসবের মধ্য দিয়ে এসেছি।’
ম্যাচসেরা অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদবের স্পিনভেল্কির সামনে ইংলিশ ব্যাটাররা ছিলেন অসহায়। দুজনই নেন ৩টি করে উইকেট।
দলের দুই স্পিন অস্ত্রের প্রশংসায় রোহিত বললেন, ‘বল করার সময় তাদের উপর চাপ ছিল। কিন্তু তারা খুব শান্ত ছিল এবং জানতো কেমন বোলিং করতে হবে। প্রথম ইনিংসের পরে আমরা আড্ডা দিয়েছিলাম। পরিকল্পনা ছিল যতটা সম্ভব স্টাম্পে আঘাত করা এবং স্টাম্পের ভেতর যতটা সম্ভব বল করার এবং তারা সেটাই করেছে।’








