ভারতের সঙ্গে কেউই বন্ধুত্ব করতে পারে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন ভারত অসাম্প্রদায়িকতার কথা বললেও ভেতরে কট্টর হিন্দুত্ববাদী।
আজ রোবার নয়াপল্টনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশকে ছোট করে দেখতে বারণ করে ভারতের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আমরা আকাশ-পাতাল, ভূমি সব দিক দিয়ে দেশকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে জানি। আমাদের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ দিল্লির আধিপত্যবাদ প্রতিহত করতে প্রস্তুত আছে।
তিনি বলেন, ভারতের মন ভালো নেই। কারণ ওদের সঙ্গে শ্রীংলকা নেই, পাকিস্তান নেই, ভুটান নেই, নেপাল নেই। ছোট একটি দেশ মালদ্বীপও ওদের সঙ্গে নেই। এখন বাংলাদেশকে নিয়েও তারা ষড়যন্ত্র করছে। ওরা মুখে অসাম্প্রদায়িকতার কথা বললেও ভেতরে কট্টর হিন্দুত্ববাদী।
ভারতের ভিসা দেওয়া বন্ধ করার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন: কোনো লাভ নেই। কলকাতার মার্কেট বন্ধ, অনেক ক্লিনিক বন্ধ। আমাদের দেশের ভিসা বন্ধ করে তো আমাদের উপকারই করেছে ভারত। ডলার পাচার হবে না। অনেক টাকা চলে যেত ভারতে। এখন টাকাও যাবে না। আর ভোগ্যপণ্য না দিলে দেশের মানুষ বেশি পরিশ্রম করে ফসল উৎপন্ন করবে। আমাদের রিজার্ভ বাড়বে। এতে আমাদের লাভই হল।
ভারতের লোকজন বাংলাদেশের ইলিশের জন্য তাকিয়ে থাকে এমন ইঙ্গিত দিয়ে রিজভী আরও বলেন: আমাদের সুস্বাদু ইলিশের জন্য সবাই তাকিয়ে থাকে। ইলিশ নেন কেন? আসলে ভারত সবসময় বিদ্বেষ ছড়ায়। এরা বাংলাদেশকে সহ্য করতে পারে না। আমাদের দেশে শতভাগ স্যানিটারি সিস্টেম রয়েছে। অথচ কলকাতা থেকে দিল্লি যাবে দেখবে ৬০ ভাগের বেশি স্যানিটারি নাই। কিসের এতো অহংকার। ওরা আসলে ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক। ভিন্ন ধর্মের প্রতি প্রতিহিংসা ছাড়া কোনো রাজনীতি নেই।
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ভারতের জনগণের ভোট দিয়ে ইচ্ছামত সরকার পরিবর্তন করতে পারে। অথচ আপনারা শেখ হাসিনাকে সর্মর্থন করছেন, যিনি কিনা ১৬ বছর দেশের জনগণকে বন্দি করে রেখেছিল। তার মানে কি আপনারা বাংলাদেশের জনগণকে পছন্দ করেন না? বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শ্রদ্ধা করেন না? শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর জন্য ভারতের শাসকগোষ্ঠী যা করছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা আগ্রাসন ছাড়া আর কিছু না।
যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘আমরা ভারতকে বন্ধু ভেবেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে প্রভুর ন্যায় আচরণ করছে। আমরা বন্ধু সুলভ আচরণ চাই। আমরা কোনো প্রভুসুলভ আচরণ মানব না। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিল তার দেশের বাইরে কোনো প্রভু নেই। কোনো সম্পত্তিও নেই।’
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনা দুঃখজনক। তারা হাইকমিশনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’








