এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের কোলাকুলি? অসম্ভব ব্যাপার! দুদলের ক্রিকেটাররা মুখোমুখি দেখায় হাত মেলানোই বন্ধ করে দিয়েছেন। এশিয়া কাপে শুরু হওয়া রেওয়াজ বহাল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচেও। সূর্যকুমার যাদব ও সালমান আলী আঘা টসের সময় হাত মেলাননি। ম্যাচের পরও দেখা যায়নি এই সৌজন্য। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে এখন খেলার পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক’ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই বেশি চলে।
মাঠের খেলায় উত্তাপ না থাকলেও প্রতিবারের মতো এবারও ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় দুদেশের অনেক রথী-মহারথী উপস্থিত ছিলেন। কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামের উপস্থিতির অন্য একটি কারণও ছিল, তেমনি রোহিত শর্মারও। প্রথমজন ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়, রোহিত বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।
ম্যাচ শুরুর আগে এ দুজনকে কোলাকুলি করতে দেখা গেছে। ম্যাচপূর্ব আনুষ্ঠানিকতা সারতে গিয়ে মাঠে দেখা হয় তাদের। দুজনই একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর হ্যান্ডশেক করতে করতে তাদের মধ্যে দুচার কথাও বিনিময় হয়েছে। ওয়াসিম অন্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে যোগ দেন।
ওয়াসিম-রোহিতের এ ব্যবহার বেশ গুরুত্ববহ, বিশেষ করে ভারত যখন হ্যান্ডশেক করার বিরুদ্ধে। গতবছর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তানের উপর পেহেলগাম হামলার দায় দিয়ে। সেই থেকে এপর্যন্ত যতবার মুখোমুখি হয়েছে, ততবার ভারত ও পাকিস্তান হ্যান্ডশেক এড়িয়ে গেছে। নারীদের ক্রিকেটে তো বটেই, যুব পর্যায়েও।
ম্যাচজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টেডিয়ামের কয়েক ব্লক দূর থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী বসানো হয়, একাধিকবার তল্লাশি চালানো হয়। শ্রীলঙ্কার বিশেষ টাস্কফোর্স স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ মোতায়েন ছিল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস; নকল জার্সির দামও বেড়ে যায়। হোটেলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
নানা নাটকীয় ঘটনার পর কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টসে জিতে ভারতকে ব্যাটের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ গড়ে ভারত। জবাবে ১৮ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে জেতে সূর্যকুমারের দল। যা একপেশে ম্যাচ বলা চলে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অবশ্য বরাবরই পাকিস্তানের বিপক্ষে একচেটিয়া দাপট ভারতের। এপর্যন্ত ৯ দেখায় ভারত জিতল ৮টিতে, পাকিস্তানের জয় একটি। এমন বাস্তবতায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্রিকেটীয় উত্তাপ যেন এখন শুধুই সোনালী অতীত, এবং চরম একপেশে। যা খেলার পরিবর্তে ‘রাজনৈতিক’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত ইস্যুতে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওই কাজের পর একই কারণ দেখিয়ে ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ, বিকল্প দল নেয় আইসিসি। জেরে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করছেন তারা।
সপ্তাহখানেক চলমান থাকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মহসিন নাকভির মধ্যে কয়েকবারের বৈঠক। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরাতে আইসিসির সঙ্গেও পিসিবির হয়েছে কয়েকদফা আলোচনা। শেষপর্যন্ত পিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসির প্রতিনিধিরা, ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম। আইসিসির সামনে বাংলাদেশের পক্ষে কিছু শর্ত উপস্থাপন করে পাকিস্তান, বলা হয় সেসব মেনে নিলে ম্যাচ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। পরে আইসিসির পক্ষ থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে রাজি হয় পাকিস্তান।







