বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য চালু করা ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নীতির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে বি-১ (ব্যবসায়িক) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড দাবি করতে পারবেন।
শনিবার (১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্মসূচিটিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে এটি ৫০টি দেশের জন্য প্রযোজ্য। তালিকায় প্রায় ৩০টি আফ্রিকার দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের নাম রয়েছে। তবে এই তালিকায় ভারতের নাম নেই।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় মনে করলে ভিসা প্রদানের শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। নতুন নিয়ম ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, ভিসাধারীরা যাতে নির্ধারিত সময় শেষে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার শর্ত মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এক বছরের পাইলট কর্মসূচির মূল্যায়নে দেখা গেছে, বন্ড ব্যবস্থা ভিসার শর্ত প্রতিপালনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
এর আগে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের বিধান ছিল। নতুন নীতিতে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের দাবি, এত বেশি অঙ্কের বন্ড বৈধ ভ্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান রোধ করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

