ভারতীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য (এমইপি) প্রত্যাহার করেছে ভারত সরকার। ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড গতকাল শুক্রবার পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বা ‘মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস’-সংক্রান্ত শর্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বের কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।
৪ মাস ৯দিন পর নূন্যতম এ আমদানি মূল্যের বাঁধাধরা নিয়ম উঠে গেলো। পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ব্যাপক লোকসানের মুখোমুখি হন। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে এর প্রভাব পড়ে।
চলতি বছরের মে মাস থেকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও প্রতিটনে নূন্যতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেই সঙ্গে যুক্ত হলো ৪০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক। সে হিসেবে ভারত থেকে নূন্যতম দামে আমদানি করা প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম পড়তো ৯২ টাকা ৪০। এর সঙ্গে বাংলাদেশে প্রবেশের পর যুক্ত হতো আমদানি শুল্ক এবং পরিবহন খরচ। সব মিলিয়ে ১ কোজি ভারতীয় পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে আসতে খরচ পড়তো প্রায় ৯৯ টাকার মতো।
এদিকে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপ করা ৪০ শতাংশ শুল্ক অর্ধেক করে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের সূত্রে পিটিআই এ খবর দিয়ে বলেছে যে, হ্রাসকৃত শুল্ক আজ শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর রফতানি মূল্য বাড়িয়ে ৮০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে ভারত। সে দামেই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করছিলেন আমদানিকারকরা। পরে বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত।
গত ২৩ মার্চ সেই মেয়াদের সময়সীমা বাড়িয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। যা ৪ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয় দেশটির সরকার। কিন্তু রফতানিতে ৪০ ভাগ শুল্ক আরোপ করে রেখেছিল তারা।








