যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেছেন: ২০১৩ সালে সরকার উৎখাতের নামে বিএনপি-জামায়াত বৃক্ষ নিধন করেছে। শুধু মানুষ এবং মানুষের সম্পদ পুড়িয়ে ওরা ক্ষ্যান্ত হয় নাই, ওরা জীব-জন্তু, গরু, ছাগল পুড়িয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ বৃক্ষও তারা কেটে ফেলে। আমরা গাছ লাগাই আর ওরা সেগুলো ধ্বংস করে। এই তাদের চরিত্র।
শুক্রবার মুগদায় যুবলীগের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
পরশ বলেন: আপনারা জানেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটা অন্যতম প্রধান কারণ বৃক্ষনিধন। নগরায়ণের সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণের বৃক্ষনিধন হয়ে থাকে, যার কারণে পরিবেশ হয় বিপন্ন এবং ভারসাম্যহীন। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সারাদেশে প্রায় ৩০ হাজার একর বনভূমি জবরদখলমুক্ত করা হয়েছে এবং বনায়ন সম্পন্ন হয়েছে। শুধু বনেই বনায়ন নয়, যখনই সরকার রাস্তা-ঘাট তৈরি করছে বা উন্নয়ন স্থাপনা নির্মাণ করছে সেখানে একটি সুনির্দিষ্ট নিদের্শনা থাকে যে কী পরিমাণ বৃক্ষরোপণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের জনগণ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করাই তার সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। পরিবেশ রক্ষায় বাসা-বাড়ির চারপাশ ও অফিসের ফাঁকা জায়গায় গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমাদের সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সুন্দর পরিবেশ দরকার। কাজেই সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্যই হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশ, দেশের মানুষ এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন: আষাঢ়-শ্রাবণ এবং ভাদ্র মাস বৃক্ষরোপণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। কারণ শুধু বৃক্ষরোপণ করলে চলবে না, বৃক্ষ পরিচর্যা করতে হবে। আগামী প্রজন্মের টেকসই বাংলাদেশ উয়ন্ননের জন্য বৃক্ষরোপণ তথা উন্নত প্রাকৃতিক পরিবেশের কোন বিকল্প নাই। তিনি বলেন-বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে পরিবেশ সুরক্ষায় যুবলীগ প্রতিবছর নেতৃত্ব দেয়। গত ৩ বছরে, প্রধানমন্ত্রী আহ্বানে প্রতিবছর কম-বেশি ১ কোটি বৃক্ষরোপণ করেছি। এবারও আমাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। তারই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখলে আমরা একদিন একদিকে দেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করতে পারব, বঙ্গবন্ধুকন্যার বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে পারব এবং আগামী প্রজন্মের জন্যও সুজলা সুফলা বাংলাদেশ রেখে যেতে পারব।
পরশ বলেন: আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আমাদের সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীতে পরিবেশ রক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ১৮ অনুচ্ছেদে সংযোজন আনা হয়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করা এখন নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা শুধু আমাদের নিজেদের নিজেদের সুরক্ষা না, আন্তর্জাতিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখছে। আর প্রকৃতিকে রক্ষা করা সকলেরই কর্তব্য, কারণ প্রকৃতি থেকে আমরা সবকিছুই পাই। আমরা বলি দেশ এবং দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করতে আমাদের পূর্বপুরুষরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে। দেশ যদি মায়ের মত হয়, তাহলে প্রকৃতিও আমাদের বড়-মা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী সাবের হোসেন বলেন: জননেত্রী শেখ হাসিনা আজকে প্রমাণ করেছেন, আমরা শুধু দেশকে স্বাধীন করি নাই, আমরা দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজকে সারাবিশ্বের নেতৃবৃন্দ আমাদের নেত্রীকে সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। আপনারা জানেন-গত ৫ই জুন আমাদের প্রিয়নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নয়, আমাদের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন কাজ করে এবং সারা বাংলাদেশে তারা গাছ লাগাবে। আপনারা বলছেন এটা মানবিক কর্মসূচি। আমরা কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশের যে চ্যালেঞ্জ গুলো আছে সেটাকে আমরা বাংলাদেশের জন্য একটা অস্তিত্বের সংকট হিসেবে নিয়েছি। কারণ যেভাবে সমদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, যেভাবে হিমালয়ের বরফ গলছে তাতে বাংলাদেশের একটা বড় অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাবে। প্রতিদিন নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি হারানো মানুষ ঢাকা শহরে আসছে, একটা পর্যায়ে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হবে। এই সকল পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে হলে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, পাহাড় রক্ষা করতে হবে। আর এই গুরু দায়িত্ব যুবলীগকেই নিতে হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সঞ্চালকের বক্তব্যে বাংলদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি বলেন: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বার বার ষড়যন্ত্রের সম্মুখিন হয়েছে। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দেশকে ধ্বংস করার জন্য, স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার জন্য একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় করানোর জন্য যা যা করার তা তিনি করেছেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ২৮ বছর দেশবিরোধীরা ক্ষমতায় থেকেছে। তাদের তখন কোন অবদানের নিদর্শন দেখাতে পারেননি।






