দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে প্রথমবারের মতো রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভ করেছে কট্টর ডানপন্থী বলে বিবেচিত দল এএফডি। আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের জন্য এই ফলাফল একটি বড় আঘাত।
জার্মানির রাজ্য থুরিঙ্গিয়া ও স্যাক্সনিতে ভোট গণনার ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, এএফডি, থুরিঙ্গিয়ায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা প্রায় ১০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে।
চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি ৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এটি একটি রাজ্য নির্বাচনে দলটির জন্য রেকর্ড সর্বনিম্ন ভোট বলে জানা গেছে। জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মাত্র ২ রাজ্যে ১ সেপ্টেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভোট পড়ে প্রায় ৫০ লাখ।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, রাজ্য নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফল হলে ক্ষমতাসীন এসপিডি, পরিবেশবান্ধব সবুজ এবং ব্যবসাবান্ধব এফডিপি দলের জোটের কী হবে? ইতোমধ্যে দলগুলোর মধ্য থেকে নিজেদের উপস্থিতি আরও বাড়ানোর এবং অবস্থান মজবুত করার ডাক এসেছে।
এই জোটের মধ্যে ২০২৫ সালের বাজেট নিয়ে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এটাও দেখার বিষয় রয়েছে যে জোট সরকার সম্প্রতি অভিবাসন নীতি আরও কড়া করার যে ঘোষণা দিয়েছে তা বাস্তবে রূপ দিতে পারে কিনা। কারণ এসপিডির বামপন্থী এবং সবুজ দলের কিছু নেতা এই উদ্যোগে সায় দেননি৷।
এদিকে বর্তমানে বিরোধী দলে থাকা খ্রিষ্টীয় গণতন্ত্র দল সিডিইউ এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্র সিএসইউ আগামী নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের উপর কড়া অভিবাসন নীতি বাস্তবায়েন চাপ দিচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, এই নীতি আরও কড়া করার পক্ষে অবস্থান তাদের।
রোববার সন্ধ্যায় ফল প্রকাশের পরই এএফডি-র নেতা টিনো কুপালা বলেছেন, একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভোটদাতারা নীতির পরিবর্তন চাইছে। তারা আমাদেরকে টুরিঙ্গিয়াতে শাসন করার রায় দিয়েছে।
এএফডি’র কো-লিডার অ্যালিসও বলেছেন, টুরিঙ্গিয়া এবং স্যাক্সনি দুই রাজ্যর মানুষই তার দলকে শাসন করার খুবই স্পষ্ট রায় দিয়েছে।
দুই রাজ্যে এএফডি যদি সরকারে যেতে নাও পারে তারপরও তাদের যথেষ্ট প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দুই রাজ্যেই যে সব সিদ্ধান্ত দুই তৃতীয়াংশ ভোটে নিতে হবে, সেগুলো প্রভাবিত করার ক্ষমতা দলটির থাকবে।
সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসাবে এএফডি রাজ্যের পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এ পদের ক্ষমতা অনেক বেশি। প্রেসিডেন্টই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান নিয়োগ করেন এবং তাকে বরখাস্তও করতে পারেন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)।








