কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
আজ ২৩ আগস্ট শুক্রবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বুরবুড়িয়া এলাকায় ভাঙন প্রায় ৩০০ ফুট ছাড়িয়েছে। অস্বাভাবিক স্রোত এবং পানির উচ্চতায় প্লাবনের কারণে প্রতিনিয়ত তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
দুর্গত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বেড়িবাঁধের আশেপাশের লোকজন আশ্রয় নিয়েছে উঁচু রাস্তার ওপরে। অনেকেই এখনও আটকা পড়ে আছেন প্লাবিত এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায় এই বাঁধ ভাঙ্গার ঘটনা ঘটে।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছে, ভাঙন কবলিত গ্রামগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ লোক আটকা পড়ে আছেন। এসব এলাকার ঘরবাড়ি ও স্থাপনাও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই স্থানের নিচ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে।
বাঁধ ভেঙ্গে সাথে সাথে বুড়বুড়িয়া, খাড়াতাইয়া, নানুয়ারবাজার, কিং বাজেহুরা, মিথিলাপুর, শিকারপুর, মহিষমারা, ইছাপুরা, পয়াত, গাজীপুর, কন্ঠনগর, মাওরা, গোপীনাথপুর,জগৎপুর ও গোসাইপুর গ্রামগুলো প্লাবিত হয়।
শুক্রবার সকাল ৮টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুড়বুড়িয়া গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা শোকে কাতর। বাড়িঘর হারিয়ে বাকরুদ্ধ।
গ্রামের বাসিন্দা সংবাদকর্মী গোলাম কিবরিয়া জানান, তার বাড়িঘর সব পানিতে তলিয়ে গেছে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নানুয়ার বাজার গ্রামের গৃহবধূ আইরিন আক্তার কান্না করতে করতে বলেন, তাঁর ১২ বছরের সংসারটা সাজানো গোছানো ছিলো। পানি সব নিয়ে গেলো।
সোমা রানী বলেন, কোলের বাচ্চাটা নিয়ে সারারাত না ঘুমিয়ে ছিলেন। বাড়িঘর সব ডুবে গেলো পানিতে । এখন কই থাকবেন সেই ভাবনার কথা মনে করে আঁচলে চোখ মুছেন।
গোমতীর বাঁধের ভান্তি,কামারখাড়া, বালিখাড়া অংশে পাঁচ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। শিশুরা আতংকিত অবস্থায় আছে। বন্যা আক্রান্ত পরিবারগুলোর মাঝে দ্রুত খাবার পানি শুকনো খাবার প্রয়োজন।
শিকারপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, রাত থেকে পানি বাড়তে বাড়তে পুরো ঘরে পানি। সবাই কোন রকম বের হয় হয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু গত ২ দিনে পানি বাড়ার হিসাব অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বৃহস্পতিবার বিকালে ১১৩ বিপদসীমার সেন্টিমিটার অতিক্রম করে।








