বাংলাদেশে ৪৭ শতাংশ নারীর বিয়ে ১৮ বছরের আগেই: জরিপ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) যৌথভাবে প্রকাশিত মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। আর ১৩ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই।
২০১৯ সালের তুলনায় হার কমলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার এখনো সবচেয়ে বেশি বলে বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে।
গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিয়ের প্রবণতা শহরের তুলনায় বেশি। গ্রামে ৫৯ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগে হলেও শহরে এ হার ৫০ শতাংশ। ঢাকা ও সিলেট বিভাগে কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও রাজশাহী ও খুলনায় হার তুলনামূলক বেশি।
শিক্ষা ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার সঙ্গেও বাল্যবিয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পাওয়া নারীদের ৬৯ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছরের আগে। সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে এ হার ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক পাস নারীদের মধ্যে বাল্যবিয়ের হার ২৮ শতাংশ।
কিশোরী মাতৃত্বের চিত্রও উদ্বেগজনক। গত পাঁচ বছরে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের সন্তান জন্মদানের হার প্রতি হাজারে ৮৩ থেকে বেড়ে ৯২ হয়েছে। এ বয়সী ২৩ দশমিক ২ শতাংশ কিশোরী ইতোমধ্যে সন্তান ধারণ শুরু করেছে। ১ দশমিক ২ শতাংশ ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে গর্ভধারণে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। মৃত সন্তান প্রসব, অপরিণত শিশুর জন্ম এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকিও এতে বেড়ে যেতে পারে।
বাল্যবিয়ের পেছনে দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের উদ্বেগ এবং সামাজিক রীতিনীতি অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। যৌন হয়রানির আশঙ্কা বা মেয়ের কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ভয়েও অনেক পরিবার অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিয়ের পর অনেক কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে তারা গার্হস্থ্য সহিংসতা ও অল্প বয়সে মাতৃত্বের ঝুঁকিতে পড়ে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি জন্ম ও বিয়ে নিবন্ধন নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পর্যায়ের বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটিকে সক্রিয় করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা, কিশোরী মায়েদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।






