দুই সতিনের দ্বন্দ্বে ঘরে আগুন, স্বামীসহ দ্বিতীয় স্ত্রী-পুত্র দগ্ধ

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যচিত্র থেকে নেয়া
মাগুরা সদর উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে দুই সতিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে আগুনে পুড়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এক ব্যক্তি, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও ১৩ বছরের এক পুত্রসন্তান।
পুলিশ জানায়, প্রথম স্ত্রী সুমি আক্তার নিজেই ঘরে আগুন লাগিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি ঘটনার পরদিন সকালে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে মাগুরার হাজিপুর ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে ঘটে এই ঘটনা। অগ্নিদগ্ধরা হলেন, বাহারুল ইসলাম (৫৫) স্বামী, লাভলী বেগম (৩০) দ্বিতীয় স্ত্রী এবং রোহান (১৩) তাদের পুত্রসন্তান।
তাদের গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী জানান, বাহারুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী বেগম ও ছেলে রোহানকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। দুই দিন আগে তিনি সন্তানসহ মাগুরায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন।
শুক্রবার বিকেলে পারিবারিক বিষয়ে দুই স্ত্রী সুমি ও লাভলীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামী বাহারুল দুই স্ত্রীকেই মারধর করেন। এতে প্রথম স্ত্রী সুমি আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি ত্যাগ করেন।
রাত গভীর হলে বাহারুল দ্বিতীয় স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু মধ্যরাতে প্রথম স্ত্রী ফিরে এসে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাহারুল ও তার পরিবারের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে তিনজনই মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন।
শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রী সুমি আক্তার (৪২) মাগুরা সদর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন এবং ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
ওসি আইয়ুব আলী জানান, অভিযুক্ত সুমিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।







