এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে নিয়ে মৃত্যু–গুজব ও অনিশ্চয়তার জেরে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কাসিম খান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে কোনও যোগাযোগ না থাকায় তারা আশঙ্কায় রয়েছেন যে ইমরান খান আদিয়ালা কারাগারে নিরাপদ নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২১৮ নভেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক্স-এ পোস্টে কাসিম জানান, তার বাবাকে জেলে পাঠানো হয়েছে ৮৪৫ দিন হয়েছে। গত ছয় সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন পরিবেশে তাকে একা একটি মৃত্যুকক্ষে রাখা হয়েছে। যেখানে তার সাথে ফোনকল বা পারিবারিক কোনো সাক্ষাৎ নেই। নেই কোনো সুস্থতার আপডেটও।
তার ভাষায়, “গত ছয় সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি মৃত্যুকক্ষে রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমার ফুফিদের সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা ভাইরা বাবার সঙ্গে কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।”
ইচ্ছাকৃতভাবে অবস্থান গোপন রাখা হচ্ছে অভিযোগ করে কাসিম বলেন, এটি কোন নিরাপত্তা প্রোটোকল নয়, বরং ইমরান খানের বর্তমান অবস্থান গোপন করার সচেতন প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকার এবং তাদের প্রভুরা আমার বাবার নিরাপত্তা এবং এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি পরিণতির পূর্ণ দায়ভার বহন করবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে কাসিম কিছু দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলে—ইমরান খান জীবিত আছেন কিনা তা অবিলম্বে প্রমাণ দিতে হবে, আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরিবারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং “অমানবিক বিচ্ছিন্নতার” অবসান ঘটিয়ে ইমরান খানকে মুক্তি দিতে হবে।
ইমরানের বোন আলেমা খানম বলেন, গত ছয়–সাত মাস ধরে আমাদের সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। কখনও আমাকে দেখা করতে দেওয়া হয়, কখনও আমার বোনকে, আবার অনেক সময় কাউকেই নয়।
জেল কর্তৃপক্ষের দাবি ইমরান খান সুস্থ আছেন। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার আদিয়ালা জেল প্রশাসন জানায়—
ইমরান খান সম্পূর্ণ সুস্থ। পিটিআই নেতাদের তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তাকে জেল থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে এমন খবর ভিত্তিহীন।
জেল প্রশাসনের বিবৃতি—ইমরান খান আদিয়ালা জেলেই আছেন এবং সুস্থ আছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো স্থানান্তর গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হন ইমরান খান। তিনি দাবি করেন—তার বিরুদ্ধে আনা বহু মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বছর জানুয়ারিতে এক দুর্নীতি মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। মার্চে পিটিআই দাবি করে, তাকে মৃত্যুদণ্ডের কক্ষে রেখে নির্জনে বন্দী রাখা হচ্ছে।








