পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা–২ দুর্নীতি মামলায় প্রত্যেককে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শনিবার রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন আদিয়ালা কারাগারে বিশেষ আদালতের বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ এ রায় ঘোষণা করেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রায়ে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় (বিশ্বাসভঙ্গ) ১০ বছর এবং দুর্নীতি দমন আইনের বিভিন্ন ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১ কোটি ৬৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। আদালত রায়ে ইমরান খানের বয়স (৭৩) ও বুশরা বিবি নারী—এই দুই বিষয় বিবেচনায় তুলনামূলক কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮২-বি ধারার সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে সৌদি সরকার থেকে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় উপহার মূল্যবান ঘড়ি, হীরার ও সোনার গয়নার সেট তোশাখানায় জমা না দিয়ে বিক্রির অভিযোগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মামলাটি করা হয়। বিচারকাজে মোট ২১ জন সাক্ষ্য দেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও উপহারগুলো তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বিলাল আজহার কায়ানি বলেন, গয়না সেটটির প্রকৃত মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি রুপি, কিন্তু মূল্যায়ন করা হয় মাত্র ৫ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৯ মিলিয়ন রুপিতে। তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
ইমরান খান ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় দেওয়া বক্তব্যে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলাটিকে বিদ্বেষপ্রসূত, সাজানো ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, তোশাখানা ক্যাবিনেট ডিভিশনের অধীন একটি বিভাগ, যেখানে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও কূটনীতিকদের দেওয়া উপহার সংরক্ষণ করা হয়। নিয়ম মেনে জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা পুনরায় কেনার সুযোগ থাকে।
এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বুশরা বিবিকে এবং এক মাস পর ইমরান খানকেও এই মামলায় জামিন দেন। গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। তবে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছর দণ্ডিত হওয়ায় তাঁরা আগেই কারাবন্দি ছিলেন।
রায়ের বিরুদ্ধে উভয়েরই হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। এদিকে এক মাসের বেশি সময় ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানা গেছে; সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর তাঁর বোন উজমা খান তাঁকে দেখতে পান। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি ভালো আছেন।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস কারাগারে ইমরান খানের ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর’ আটক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একাকী বন্দিত্ব দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
ইমরান খান ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।








