শিশুদের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি রোধে আগামী জানুয়ারি মাস থেকে নিষ্পত্তিযোগ্য ভ্যাপ আমদানি নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশে একক-ব্যবহারের ভ্যাপ তৈরি, বিজ্ঞাপন এবং সরবরাহ বন্ধ করার জন্য নতুন আইনও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
ভ্যাপ মূলত ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে বাজারজাত করা হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার বলেছেন, ভ্যাপ নতুন প্রজন্মের নিকোটিনের উপর নির্ভরতা তৈরি করছে। ভ্যাপ বা ই-সিগারেট হল লিথিয়াম ব্যাটারি চালিত ডিভাইস যেগুলিতে নিকোটিন, কৃত্রিম স্বাদ এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের তরল দিয়ে ভরা কার্টিজ থাকে।
২০২১ সাল থেকে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ই-সিগারেট বা নিকোটিন ভ্যাপ কেনা বা আমদানি করা যেকোনো অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বেআইনি, কিন্তু এই বিধিনিষেধ সত্ত্বেও প্রকাশেই চলছে ভ্যাপ ব্যবহার।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সিডনি ইউনিভার্সিটির একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে , ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি এক চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী ভ্যাপ ব্যবহার করছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্সার কাউন্সিল দাতব্য সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, একই বয়সের ১০ জন কিশোরের মধ্যে নয়জন নিকোটিন ভ্যাপ ব্যবহার করে।
নিষেধাজ্ঞার নেতৃত্বদানকারী অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার বলেছেন, আমাদের তরুণদের মধ্যে ভ্যাপিং এর মাত্রার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি বন্ধ করতে অস্ট্রেলিয়ান সরকার একসাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত মে মাসে অস্ট্রেলিয়ান সরকার একক-ব্যবহারের ভ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করার ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি।
মার্ক বাটলার বলেছেন,আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নিষ্পত্তিযোগ্য ভ্যাপের আমদানি নিষিদ্ধ শুরু হবে এবং মার্চ মাসের মধ্যে রিফিলযোগ্য নন-থেরাপিউটিক ভ্যাপগুলোও দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভ্যাপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষণা বলছে, দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ এবং হাঁপানির কারণ হতে পারে ভ্যাপিং।








