দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দুদিনে ৪০৭ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ৩০ টাকা করে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। আর বন্দরের বাহিরে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। সেই কাঁচা মরিচ বাজারে খুচরা পর্যায়ে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে হিলি স্থল বন্দর দিয়ে যেখানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গাড়ি কাঁচা মরিচ আমদানি হতো। তা এখন বাড়িয়ে ১৮ থেকে ২২ গাড়ি পর্যন্ত কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় বন্দরের পাইকারী বাজারে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা।
সোমবার ভারতীয় ১৮ টি ট্রাকে ১৯১ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। রোববার ২২ টি ট্রাকে ২১৬ মেট্রিকটন অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই হিলি স্থলবন্দর ও কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়,বন্দরে পাইকারী প্রতিটি দোকানে আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ সাজিয়ে রেখেছেন।
হিলি বাজারের খুচরা কাঁচা মরিচ বিক্রেতা শেখ বিপ্লব জানান, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে মোকামগুলোতে দেশীয় কাঁচা মরিচ পাওয়ায় যাচ্ছে না। তাই আমরা আমদানিকৃত কাঁচা মরিচ বিক্রি করছি। আর দেশীয় কাঁচা মরিচ বাজারে পাওয়ায় যাচ্ছে না। বাজারে দেশীয় কাঁচা মরিচ নেই বললেই চলে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। তা-না হলে গত বছরের মতো দাম গিয়ে উঠবে ৭ শ’ টাকায়। তাদের দাবি ভারত অভ্যন্তরের বিভিন্ন প্রদেশে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষেতে পানি জমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি মূল্য বাড়িয়েছেন দেশটির রপ্তানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা জানান, অতি বৃষ্টি আর বন্যার কারণে দেশে কাঁচা মরিচের উৎপাদন নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা বন্দরে ভিড় জমাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় অনেক পাইকার ফেরত যায়। তাই আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের মতো ভারত অভ্যন্তরের বিভিন্ন প্রদেশের বন্যা দেখা দেয়ায় সেখানে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে সেদেশের রপ্তানিকারকরা রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক প্রতাব জানান, আগে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গাড়ি করে কাঁচা মরিচ আমদানি হলেও গেলো রোববার ২২ টি ভারতীয় ট্রাকে ২১৬ মেট্রিকটন ও সোমবার ১৮ টি ভারতীয় ট্রাকে ১৯১ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে এই বন্দর দিয়ে।








