বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার পর একে একে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
মামলা ও গ্রেপ্তার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে মামলা হলেই আর গ্রেপ্তার করা হবে না। আগে তদন্ত হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসব মামলায় প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছেন। গতকাল সোমবার গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুই ডজনেরও বেশি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশের আইজি মো. ময়নুল জানিয়েছেন, কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য মামলাগুলো পুলিশ সদর দপ্তর মনিটরিং করছে৷ যারা অপরাধ করেছেন, তাদেরই আইনের আওতায় নেয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৩টি মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলাগুলোতে ঠিক কত জন আটক হয়েছেন তার হিসেব নেই তাদের কাছে। যেসব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশই হত্যা মামলা।
ক্ষমতা হারানোর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই হত্যা মামলা। এছাড়া গণহত্যা এবং অপহরণের মতো অভিযোগেও মামলা হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে। এসব মামলার আসামির তালিকায় তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামও রয়েছে। একইভাবে নাম রয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ অনেক নেতাদের।
এখন পর্যন্ত মোট মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই ১৭৭টি মামলা করা হয়েছে যেখানে ১৭৭টির মধ্যে ১৫৭টিই হত্যা মামলা৷ এসব মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও আসামি করা হয়েছে। মামলা হয়েছে পুলিশের ৩৮৮ জন সদস্যের বিরুদ্ধেও৷
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, গুম ইত্যাদির মামলা করা হচ্ছে। তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আবার অনেককে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান।
এছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবি তাজুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)







