দিনাজপুরের খানসামায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিক শুভ চন্দ্র রায় (২৩)’র বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক তরুণী (২১)। এ ঘটনায় প্রেমিক শুভর বাড়িতে এলাকার উৎসুক মানুষ ভিড় জমিয়েছে।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ওই তরুণী উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ গ্রামের নাপিত পাড়ায় মানিক রায়ের ছেলে প্রেমিক শুভ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে অনশন শুরু করে। তার বাড়ি একই ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া শাহাপাড়া এলাকায়।
বিকেলে শুভ’র কাকা এবং কাকি ও পিসি মিলে ওই তরুণীকে টেনে-হেছড়ে অটোবাইকে তুলে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।
অনশনে থাকা ওই তরুণীর অভিযোগ, ‘দুই বছর ধরে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক। প্রমাণস্বরূপ অনেক এসএমএস রয়েছে। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বছর ধরে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। সম্প্রতি বিষয়টি পরিবার জেনে যায়। এরপর থেকেই আমি বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলাম। কিন্তু পরিবার অন্য জায়গায় শুভ’র বিয়ে ঠিক করে। তাই বাধ্য হয়ে অনশন শুরু করি। শুভ আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিব। এছাড়া বিকল্প কিছু নেই। কারণ এলাকার মানুষ সবাই জানে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক।
ওই নারী আরও বলেন, আমার পরিবার থেকে বিয়ের কথা বললে ছেলে পক্ষ যৌতুকের দাবি হিসেবে ৫ লাখ টাকা চাইছে। পরিবার থেকে এত টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে গোপনে তারা অন্য জায়গায় শুভ’র বিয়ের আয়োজন করে। এ খবর শুনে আমি সকালে আশ্রয় নিয়েছি ছেলের বাড়িতে। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে শুভ বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে ছেলের কাকা এবং কাকি ও পিসি মিলে আমাকে জোরজবস্তি করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এসেছে।’
এবিষয়ে প্রেমিক শুভ এবং তার পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
ওই তরুণীর পিতার সঙ্গে কয়েকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ভেড়ভেড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার পর মেয়েটিকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়েছে। তবে মেয়ে ও ছেলে পরিবারের কেউ এখানে এখনো আসেনি। এখানে উভয়ের পরিবার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই হবে। আমি এখানে কী করবো।’
খানসামা থানার তদন্ত (ওসি) তহিদুল ইসলাম জানান, ‘এ নিয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রতিবেদন লেখা (সন্ধ্যা) পর্যন্ত ভুক্তভোগী তরুণী ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করছিল।








