ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ও হামাসের তিন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ এবং ইসমাইল হানিয়া।
মঙ্গলবার ২১ মে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, করিম খানের আবেদনের পর এবার আইসিসিরি বিচারকদের এবটি প্যানেল এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে কিনা তা বিবেচনা করবে।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন মঞ্জুর হলে নেতানিয়াহুসহ এই নেতাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।
আইসিসির বিচারকরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে আইসিসির ১২৪ সদস্য রাষ্ট্রের ওপর এই পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তারের বাধ্যবাধকতা আসবে। অর্থাৎ নেতানিয়াহু বা অন্যান্যরা এসব দেশ সফর করলে দেশটি নীতিগতভাবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করার কথা।
তবে ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের কোনোটিই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। আইসিসি যদি সত্যিই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, তা হলে ইসরয়েল বা যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহু কিংবা ইয়োয়াভ গ্যালান্তের গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
যদি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় তাহলে এর অর্থ হবে ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গ্রেপ্তারের ঝুঁকি না নিয়ে ঘনিষ্ঠ পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।
কেননা ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইসিসিকে স্বীকৃতি দেয়। তাই পরোয়ানা জারি হলে ইউরোপের দেশগুলোসহ বিশ্বের অনেক দেশেই সফর বন্ধ করতে হবে নেতানিয়াহু, গ্যালান্ত ও আইডিএফের সামরিক কর্মকর্তাদের। কারণ পরোয়ানা বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত সেসব দেশে গেলে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, আইসিসির পদক্ষেপ ‘যুদ্ধ থামাতে, জিম্মিদের বের করে আনা বা মানবিক সহায়তায় পৌঁছাতে সহায়ক নয়’। কিন্তু যদি পরোয়ানা জারি করা হয়, তবে ব্রিটেনকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আইসিসির উদ্যোগকে নাকচ করে বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য’। তিনি জানান, ‘ইসরায়েল ও হামাস কোনো দিক দিয়েই তুলনার যোগ্য নয়।’








