ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া করেছে ভারত। ফাইনাল মহারণে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের হাতে শিরোপা তুলে দিয়েছেন। পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে ভারতের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন। বিজেপি নেতার ড্রেসিংরুমে প্রবেশকে আইসিসির নিয়মবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।
ফাইনালের পর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রোহিত-কোহলিদের ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কুশলাদী বিনিময় করছেন মোদী। ক্রিকেটারদের সান্ত্বনা দেন তিনি। কোচ রাহুল দ্রাবিড়, অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সাথে কথা বলেন। আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার মোহাম্মদ শামিকে বুকে জড়িয়ে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
এমন ঘটনার পর মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। দেশটির আরেক শীর্ষ রাজনৈতিক দল কংগ্রেস যেটিকে ‘কোরিওগ্রাফড সান্ত্বনা’ বলে মন্তব্য করেছে।
তবে দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ কীর্তি আজাদ দলের ড্রেসিংরুমে মোদীর সফর আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন বলে সামনে এনেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ড্রেসিংরুম একটি দলের অভয়ারণ্য। আইসিসি সেখানে খেলোয়াড় ও সাপোর্টিং স্টাফ ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয় না। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল ড্রেসিংরুমের বাইরে দলের সঙ্গে দেখা করা। আমি এটি একজন খেলোয়াড় হিসেবে বলছি, রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়।’
আজাদ বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদী কি সমর্থকদের তার বেডরুমে, ড্রেসিংরুমে বা টয়লেটে এসে সান্ত্বনা বা অভিনন্দন জানাতে দেবেন? খেলোয়াড়রা রাজনীতিবিদদের চেয়ে অনেকবেশি সুশৃঙ্খল।’
ভারতের ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য আজাদ। বর্তমানে রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের গোয়া ইনচার্জ হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আহমেদাবাদে ফাইনালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবকে আমন্ত্রণ না করায় বিসিসিআইয়েরও নিন্দা করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘যে লোকটি এবং যার দল ভারতের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল, ১৯৮৩ সাল কপিল দেব, তাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এখন বলুন কে রাজনীতি করছে?’
আইসিসির ৩.১.১ ধারা অনুযায়ী প্লেয়ার এন্ড ম্যাচ অফিসিয়াল এরিয়া (পিএমওএ) শুধুমাত্র সেসকল ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে, যাদের সেই এলাকায় উপস্থিতি অপারেশনাল উদ্দেশ্যে একেবারে অপরিহার্য। এরমধ্যে খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিসিয়াল, দলের কোচিং স্টাফ এবং আইসিসি’র কার্ডধারী স্টাফরা রয়েছেন।
৩.১.২ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী ভিজিটর হিসেবে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে আইসিসি দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাপকের নিকট হতে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন কেউ কেউ। এই তালিকায় রয়েছেন, আইসিসি এবং জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশনের কর্মী এবং ভেন্যুর নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ক্যাটারিং স্টাফের সদস্য।
৩.১.৩ ধারায় আছে, উপরোক্ত কেউ ছাড়া অন্যকোনো ব্যক্তিকে তাদের পরিচয়, ভূমিকা কিংবা পদমর্যাদা বিবেচনা করে নির্বিশেষে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।







