ছয়মাসের মধ্য ভেঙে দেয়া হল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বের যে কমিটির অনিয়মের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত কমিটির বেশ অনিয়ম উঠে এসেছে। যার ভিত্তিতে সেই পর্ষদ বিলুপ্ত ও তামিম ইকবালকে সভাপতি করে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছে সরকার।
পর্ষদ ভাঙা ও অ্যাডহক গঠনের সম্পূর্ণ বিষয়টি আইসিসিকে মেইল করেছে এনএসসি। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। সদ্যগত বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের পাশপাশি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও অনিয়মের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এনএসসি উপসচিব ও ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক আমিনুল এহসান গণমাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে তথ্য তুলে ধরেন। বিসিবির গত নির্বাচনে অনেক অনিয়মের খোঁজ উঠে এসেছে তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে। বোর্ডের সংবিধানের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও আছে তার মধ্যে।
বিসিবির সবশেষ নির্বাচনে অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল আগেই। যা তদন্তে গঠিত কমিটি দুদিন আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটির ভিত্তিতে আইসিসির কাছে মেইল করে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এনএসসি।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে বিসিবির নতুন নির্বাচন করার কথাও জানিয়েছে। এই তিনমাস বিসিবি এবং দেশের ক্রিকেটের সকল কাজের নেতৃত্ব দেবে অ্যাডহক কমিটি।
বিসিবি নির্বাচনের তিনটি ক্যাটাগরিতে তদন্ত কমিটি সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। পাশাপাশি সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কথাও বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার সুপারিশ রাখা হয়েছে।
গত নির্বাচনে বিসিবি সভাপতি হওয়া আমিনুলের দায়িত্বের বাইরেও প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অনেক ঘটনা উঠে এসেছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। বিসিবির সংবিধানের আর্টিকেলের ৯.৩.৩ অনুযায়ী, সভাপতি এককভাবে ১০ সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলরের মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। কিন্তু আমিনুল সেই সাবেক ক্রিকেটারদের মনোনয়ন দিয়েছেন, যা ক্ষমতার অপব্যবহার। এমনকি তিনি কাউন্সিলরদের থেকে সুবিধা ভোগ করেছেন।
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ হস্তক্ষেপের নজির উঠে এসেছে বিসিবি নির্বাচনে গঠিত তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে। এসেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা দেয়া হয়েছে। যার মধ্য উল্লেখযোগ্য, সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ এবং বেআইনি প্রচারণা সুবিধা।
১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটিতে যারা
তামিম ইকবাল (সভাপতি)
রাশনা ইমাম
মির্জা ইয়াসির আব্বাস
সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ
ইসরাফিল খসরু
মিনহাজুল আবেদিন নান্নু
আতহার আলী খান
তানজিল চৌধুরী
সালমান ইস্পাহানী
রফিকুল ইসলাম
ফাহিম সিনহা








