ভারতের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ খেলছে ইংল্যান্ড। প্রথম চার টি-টুয়েন্টি শেষে সূর্যকুমার যাদবের দল ৩-১ ব্যবধানে জিতে বসে আছে। বিতর্ক বেধেছে চতুর্থ ম্যাচে এসে। ভারত একজন অলরাউন্ডারের পরিবর্তে দ্বিতীয় ইনিংসে একজন ফুলটাইম পেসারকে খেলিয়েছে। যা নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। হারের পর ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার বলেছেন, ‘১২ জনের একাদশ’ নিয়ে খেলেছে ভারত। দেশটির সাবেক স্পিন-অলরাউন্ডার রবীচন্দ্রন অশ্বিন বলছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেছেন, ‘খেলা শেষ। ভারত ঘরের মাঠে আরও একটি সিরিজ জিতেছে। টি-টুয়েন্টিতে জয়ের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, এটি যে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল সেটা আমরা ভুলে গেছি? আমরা এটিকে একটি আইপিএল ম্যাচ ধরে খেলেছি? কারণ এই ম্যাচের পর সব আলোচনা এখন শিভম দুবের কনকাশন বদলি নিয়ে। কীভাবে হল এটি? অতীতেও এমন ঘটেছে। ক্যানবেরায়, রবীন্দ্র জাদেজার বদলি নেমেছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল।’
‘আপনি এটিকে কাব্যিক ন্যায়বিচার বলবেন, নাকি আসলে কাব্যিক অবিচার বলবেন? আমি এটা বুঝতে পারছি না। এর আগে, রবীন্দ্র জাদেজার বদলি হলেন চাহাল। এখানে, শিভম দুবের বদলি নামলেন হার্ষীত রানা।’
‘ভারত বা ইংল্যান্ড দলের কোনো ভূমিকা নেই। যদি কেউ দলে না থাকত তাহলে বলতে পারতেন হার্ষীত রানার কাথা। কারণ সে কিছুটা ব্যাট করতে পারে এবং শিভম দুবে কিছুটা বোলিং করতে পারেন, তাই আমরা তাকে দলে এনেছি। কিন্তু একই রকমের বিকল্প রমনদীপ সিং বাইরে বসে ছিলেন। সত্যি বলতে আমি আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না।’
‘এটা ক্রিকেটের ভুল হিসাব-নিকাশের একটা ঘটনা, হয় আম্পায়ারদের পক্ষ থেকে অথবা ম্যাচ রেফারির পক্ষ থেকে অথবা যার বা যাদের পক্ষ থেকেই হোক না কেনো- রমনদীপ সিং ছিলেন, একজন ব্যাটসম্যান যিনি কিছুটা বল করতে পারেন, শিভম দুবের মতোই। কিন্তু তাকে নয়, হার্ষীত রানাকে কনকাশনের বিকল্প হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের এটি খতিয়ে দেখা উচিত। আজ হয়ত এটা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘটেছে তাই তারা কষ্ট পেয়েছে, কাল হয়ত সেটি ভারতের সঙ্গে ঘটেবে এবং কষ্ট পেতে হবে।’
এর আগে পুনেতে শুক্রবার ৩৪ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন শিভম দুবে। ইনিংসের শেষ বলে রানআউট হওয়া শিভমের ব্যাটিংয়ের সময় একবার বল লেগেছিল হেলমেটে। পরে আর ফিল্ডিংয়ে নামেননি ৩১ বর্ষী বাঁহাতি। তার ‘কনকাশন বদলি’ হিসেবে নামেন হার্ষীত রানা। ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছিলেন শিভম, পরে আবার তার পরিবর্তে নামা হার্ষীত বল হাতে নেন ৩ উইকেট।
দুবে একজন অলরাউন্ডার, যার ব্যাটিংটা মূলত দলের প্রধান শক্তি। এর বাইরে অনিয়মিত মিডিয়াম পেসারের ভূমিকায়ও তাকে দেখা যায়। কিন্তু অনিয়মিত একজন বোলারের জায়গায় ফুলটাইম পেসার রানাকে নেয়ায় বাধে বিপত্তি।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী বদলি হিসেবে যে খেলোয়াড় নেয়া হবে তার ভূমিকা আঘাত পাওয়া ক্রিকেটারের মতো (লাইক টু লাইক) হতে হবে। এই বদলিতে দল যেন অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, সেই বিষয়ের কথা উল্লেখ করা আছে। এসব মিলে গেলেই ম্যাচ রেফারি সাড়া দেবেন।








