‘ভারত এখন যদি নিরপেক্ষ ভেন্যু পেতে চায় এবং হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করে, তাহলে আমরাও বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল ব্যবহার করব। পাকিস্তান বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ঢাকা বা অন্য যেকোনো ভেন্যুতে খেলতে পারে। একই মডেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও চলবে। ব্যাপারটা খুবই সহজ। পাকিস্তানে খেলতে ভারত রাজি হলে আমরাও বিশ্বকাপ খেলতে ওদের দেশে যাব।’
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে এভাবেই পিসিবির পরিকল্পনা ও অটল অবস্থানের কথা বলেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি।
এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে আছে ভারত এবং পাকিস্তান। ঘোলাটে হচ্ছে পরিস্থিতি। সমাধানের পথ খুঁজছে এসিসি ও আইসিসি। এমন অবস্থায় ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ এবং এশিয়া কাপে ভারতের ম্যাচগুলো হতে পারে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচগুলো খেলতে পারে বাংলাদেশে, বলেছে অন্য যেকোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুর কথাও।
চলতি বছরের অক্টোবরে হতে চলা ওয়ানডে বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচটি আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই। মোদীর শহরে প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পাকিস্তানকে খেলানোর বিষয়টি ইঙ্গিত দিয়ে নাজাম শেঠি করেছেন বিস্ফোরক মন্তব্য।
‘যখন শুনলাম পাকিস্তানের ম্যাচ আহমেদাবাদে হবে, তখন হেসেছিলাম এবং মনে মনে বলেছিলাম– আমাদের ভারতে না আসা নিশ্চিতের একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমি বলতে চাচ্ছি, আপনি যদি চেন্নাই বা কলকাতা বলতেন, তাহলে একটা কথা ছিল।’
এদিকে পাকিস্তানের হাইব্রিড মডেলের এশিয়া কাপে না খেলার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে এসেছে, সেপ্টেম্বরে আসরটিতে খেলতে ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা এবং সেসময় আমিরাতের তাপমাত্রা অনেকবেশি থাকার বিষয়টি বিসিবি ও এসএলসি সামনে এনেছে, যাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে খেলতে যেতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বাস্তবতা বুঝতে পেরে হাইব্রিড মডেল নিয়ে আরও নমনীয় অবস্থানে যাচ্ছে পিসিবি। ১৩ ম্যাচের ভেতর নিজেদের চারটি ম্যাচই কেবল পাকিস্তানের মাটিতে এবং বাকি নয়টি ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছেন নাজাম।
‘তিন দিন আগে প্রস্তাবটি জমা দিয়েছিলাম। আমরা পাকিস্তানে চারটি ম্যাচ খেলি, তারপর দলগুলো সরাসরি এখানে খেলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে চলে যাক, সেটা যেখানেই হোক না কেনো। আমরা সেখানে বাকি ম্যাচগুলো খেলব। আমরা ফাইনালে উঠলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলব সেই ছাড়ও দিয়েছি। ভারতের বিপক্ষে হোক বা অন্যকারোর বিপক্ষে। আমরা এ সকল সমস্যা সমাধানের জন্য পেছনে হাঁটছি।’
এশিয়া কাপ আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য সময় লাগবে তিন মাস। সময় হাতে বেশি নেই উল্লেখ করে পিসিবি চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি নিয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) এক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুবাইতে হওয়া বৈঠকের আলোচ্য সূচি নিয়ে এসিসির চেয়ারম্যান ও বিসিসিআইয়ের সচিব জয় শাহর সঙ্গে সেই কর্মকর্তা বৈঠক করবেন।







