নানা আয়োজনে পালিত হয় আন্তর্জাতিক দিবসগুলো। তেমনি একটি ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। নারী দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য “সমতা ক্ষমতায়ন অধিকার কন্যা নারী সবার”। প্রশ্ন থেকে যায় বহুপথ পেরিয়ে আজও চলছে নারীর সমতা, অধিকার, ক্ষমতায়ন নিয়ে আন্দোলন।
১৮৫৭ সালে মার্কিন শ্রমজীবী নিপীড়িত নারীরা রাস্তায় নেমেছিলেন প্রতিবাদে যার ফলশ্রুতিতে নারী দিবস। সারাবিশ্ব ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে।
বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। এদেশের মহীয়সী নারীরা পর্দাপ্রথা ভেদ করে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের পথ অনুসরণ করতে করতে আজকের নারী দিন মজুর, চা, পিঠা, সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা, খেলায়, প্রশাসনিক কাজে, জ্ঞান-বিজ্ঞান সর্বক্ষেত্রে নারীর পদচারণা।

বাংলার নারীরা এতো যোগ্যতা, এতো দক্ষতা অর্জনের পরও নিরাপত্তাহীনতার স্বীকার। নারীর পোশাক নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আর নিপীড়কের গলায় বরণমালা। নারীর প্রতি সহিংসতা কতটুকুই প্রকাশ ঘটে, সব চলে ধামাচাপা। ভাবা হয় পরিবারের সম্মানের কথা, নিপীড়কের জীবনের কথা।
ভাবতে অবাক লাগে! শিশু পরিবারে, বিদ্যালয়ে অনিরাপদ। এইসব পরিবর্তনের জন্য প্রতিটা নারী – পুরুষকে, প্রতিটা পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। এখানেও শুরু না হোক বৈষম্যতা। যেকোনো কল্যাণকর কাজে সফলতা অর্জন সম্ভব নারী পুরুষ একসাথে কাজের মাধ্যমে। সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মিনা কার্টুন যেমন নারী শিক্ষা প্রসারে সহায়ক ভূমিকা ছিল, তেমন কিছু প্রচার – প্রচারণা চালানো দরকার। এখনও সমাজ নারীদের নেতা, শিক্ষক জনাব ইত্যাদি সম্ভোধন করতে দ্বিধা বোধ করে। প্রায়শই নারীদের হোম মেকার, হোম মিনিস্টার বলতে শোনা যায়।
এটি কিন্তু নারীর প্রতি সম্মান না বরং এসব আসলে উপহাস। সমাজকে বদলাতে হলে পরিবারের ভেতরের মানুষগুলেকে বদলাতে হবে। কন্যা সন্তানকে যেমন নির্ভীক করে গড়ে তুলতে হবে তেমনি পুত্র সন্তানকে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে অবগত করতে হবে। ভুলেও এমনটি করা যাবে না যে, সংসারে মেয়ের চাইতে ছেলের গুরুত্ব বেশি।

পরিবারের ভিতরে নারী সদস্যদের মাঝে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ মনোভাব পোষণ করা যাবে না। বন্ধ করতে হবে ফেইসবুকে নিম্ন মানের ভিডিও। যেখানে চলতেই থাকে নারীর প্রতি নারীর বিদ্বেষ। এই প্রজন্মের তরুণের সেচ্ছাসেবক হয়ে কাজ করতে হবে মাঠে নেমে। অভিভাবকদের অনেক থাকতে হবে সর্বক্ষেত্রে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে হবে শিক্ষকদের।
আমরা একে অপরকে দোষারোপ না করে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করি। তবেই পরিবর্তনের শ্রোতে ভাসতে ভাসতে আমরা পৌঁছে যাব গন্তব্যে।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








