ঢাকা-৯ আসনের ভোটার, স্বেচ্ছাসেবক ও ভিন্নধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এক পোষ্টে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী তাসনিম জারা বলেছেন, আমরা প্রথম হতে পারিনি, তবে অনেকের কাছে অসম্ভব বলে মনে হওয়া কাজটি করেছি।
তিনি বলেন, অল্প কয়েক সপ্তাহের প্রচারণায় ৪৪ হাজার ভোটার মাইকবিহীন, পেশিশক্তিবিহীন ও বিদ্বেষহীন একটি প্রচারণার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। সম্মান ও সততার রাজনীতির একটি মডেল বেছে নেওয়ার জন্য তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি জাতীয়ভাবে বিজয়ী দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে ঢাকা-৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের রাতে তাকে ফোন করে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা-৯ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে বিজয়ীরা সফল হবেন। জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন এবং প্রয়োজনে বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে অবস্থান নেবেন বলেও জানান।
এই নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের নজিরবিহীন অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারণী বৈঠকে নারীর উপস্থিতি আলোচনার ধারা বদলে দেয়। এটি ছিল দেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
প্রচারাভিযান দেখেছে এমন প্রতিটি কিশোরীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে তোমাদের জায়গা আছে। নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সাহসের বীজ রোপণ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের এই আন্দোলনের প্রাণ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা নাগরিকত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক সক্রিয়তায় নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়েছে।
তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের হৃদয় জয় করাই সবচেয়ে কঠিন বিজয়। আমরা সংগঠিত থাকব, সোচ্চার থাকব, একসঙ্গে থাকব।
নির্বাচন শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যেতে পারেন এমন ধারণা সম্পর্কে সরাসরি বক্তব্য দিয়ে বলেন, তার শেকড় ও কাজ এই দেশেই। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না।
এক রাতের নির্বাচনের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়েই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন প্রচারণায় মানুষের হৃদয় জয় সম্ভব তা প্রমাণিত হয়েছে। তবে নির্বাচন দিবসে ভোট সুরক্ষায় পোলিং এজেন্টদের সাহস ও কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিতির গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ মডেলকে টিকিয়ে রাখতে আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান না হলে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হতো না। যারা আত্মত্যাগের মাধ্যমে পথ তৈরি করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস ও তার দল এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, জটিল বাস্তবতায় একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ, তবে গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য তা ছিল অপরিহার্য।
৪৪ হাজার ভোটকে শক্ত ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা দেখিয়েছি সততার জন্য মানুষের তৃষ্ণা আছে। আমরা পুরোনো ধারা ভেঙেছি।
ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে সবার জন্য সমানভাবে গড়ে তোলার কাজ চলমান থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
তার ভাষায়, সেরা সময় এখনও আসেনি—সামনেই আসছে।








