রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভিন্নধারার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন সারা জীবন দেখেছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। সৃজনশীল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিতে নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্প্রতি রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
পারফরমিং আর্টস বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শেষে পেশাজীবনে অনিশ্চয়তাবোধ প্রসঙ্গে জাফর ইকবাল বলেন, ‘শিক্ষার্থী যদি সৃজনশীল হয়, মেধাবী হয় তাহলে সে সবসময় তার জীবনে উন্নতি করে; আমি এমন কোনো শিক্ষার্থী দেখিনি যার কোনো বিষয়ে আগ্রহ ও উৎসাহ আছে সেক্ষেত্রে সে পড়াশুনা করে সাফল্য অর্জন করেনি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের বলব, ভবিষ্যত নিয়ে মনে কোনোরকম অনিশ্চয়তা না রাখতে বরং আমরা তাদের একরকম হিংসা করি এজন্য যে আমরা যে জিনিসটা করতে চাচ্ছিলাম, করতে পারি নাই ওরা সেটা করছে।’

পারফরমিং আর্টসের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দেয়ায় রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে জাফর ইকবাল বলেন, ‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে একটা কালচারাল রেভিলিউশন করতে হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যতক্ষণ পর্যন্ত এদেশের মানুষ সাংস্কৃতিকভাবে অগ্রসর না হবে এদেশ পিছনেই আটকা পড়ে থাকবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘দেশে অনেক টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিন্তু সবসময়ই এই ধরনের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব অনুভব করেছি, ভেবেছি, যদি এরকম থাকতো! আমি সবসময় স্বপ্ন দেখতাম যে এধরনের বিশ্ববিদ্যালয় দরকার; বিশেষ করে আমাদের সংস্কৃতি এতোটা সমৃদ্ধ, অথচ শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে।’
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন ‘আমি শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সন্তুষ্ট না, আমি চাই এমন বিশ্ববিদ্যালয় আরও হোক । এক্ষেত্রে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয় দেখে অন্যরা অন্য এক জায়গায় এরকম আরও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে পারে।’








