আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে নিখোঁজ সাবমেরিন টাইটান সম্পর্কে জানাতে গিয়ে টাইটানিক চলচ্চিত্রের পরিচালক জেমস ক্যামেরন বলেছেন, ‘টাইটানের সাথে কী ঘটেছিল, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম।’ এই পরিচালক ১৯৯৭ সালে টাইটানিক চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষে বিভিন্ন সময় মোট ৩৩ বার সমুদ্র তলদেশে গিয়েছিলেন।
শুক্রবার ২৩ জুন সকালে বিবিসি জানায়, সাবমেরিন টাইটান নিখোঁজের দিন রোববার তিনি একটি জাহাজে ভ্রমণ করছিলেন। যার ফলে সোমবার পর্যন্ত তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
ক্যামেরন বলেন, ‘যা ঘটেছে আমি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছিলাম। যখনই শুনেছি সাবমেরিনটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং একই সাথে ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার কাজ করছে না, তখনই বুঝেছি যে সাবমেরিনটি আর নেই!’
পরিচালক আরও জানান, রোববার (১৮ জুন) তিনি একটি নৌজাহাজে ছিলেন। টাইটান নিখোঁজ হওয়ার কথা সোমবার পর্যন্ত তিনি জানতে পারেননি। যখন তিনি জানতে পারলেন, সাবমেরিনটি যোগাযোগ ও তার নিজের গতিপথ হারিয়ে ফেলেছে, তখনই ধারণা করেছিলেন এরই মধ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।
জেমস ক্যামেরন বলেন, ‘মনে হয়েছে, দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের সময়ের মতো, যেখানে মানুষজন ছোটাছুটি করছে আর চিৎকার করে অক্সিজেন এবং এইসব নিয়ে শুধু কথা বলে যাচ্ছে।’ ঘটনাটি জানার পর ক্যামেরনের মাথায় প্রথমেই যে বিষয়টি এসেছিল, তা হলো ‘বিস্ফোরণ’।
গতকাল মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, টাইটান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই তারা একটি শব্দগত অসংগতি শনাক্ত করেন। এই শব্দ বিস্ফোরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, টাইটানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের এক হাজার ৬০০ ফুট দূরে। যার মধ্যে রয়েছে- টাইটানের সামনের নাকের অংশ, কাঠামোর বাইরের অংশ এবং বড় একটি ধ্বংসস্তূপ।
আরও পড়ুন: নিখোঁজ সাবমেরিনে হয়েছিল বিস্ফোরণ, কেউ বেঁচে নেই
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কিনা, এটি এখনই বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা। কারণ বর্তমানে সেখানকার অবস্থা তেমন ভালো নয়। যানটি নিখোঁজ হওয়ার পর সবমিলিয়ে ৭২ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যেহেতু সাবমেরিনটির বিস্ফোরণ ও ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাই সেখানে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ ও মেডিকেল টিমকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে সাগরের তলদেশে যে ধ্বংসস্তূপ পাওয়া গেছে সেখানে তদন্ত চালাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কোস্টগার্ড।
বেসরকারি সংস্থা ওশেনগেট যারা সাবমেনির টাইটান পরিচালনা করত, তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যানটিতে থাকা ওশেনগেট সিইও স্টকটন রাসম, শাহজাদা দাউদ এবং তার ছেলে সুলেমান দাউদ, হামিস হার্ডিং এবং পল-হেনরি নারগোলেট সবাই এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
ওশেনগেটের এ যানটিতে করে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে একেকজন যাত্রী দু’লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেছিলেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দু’কোটি ৭০ লাখ টাকা।







