রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এর নির্বাচন নিয়ে আমাদের সংকল্প দৃঢ়। আমরা এটা করব। ফলে, এ ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ কতটুকু বা আন্তরিকতা কতটুকু এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আমি রাকসুর নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব তিনি কথা বলেন।
রাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমি একক সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। সব স্টেক হোল্ডারদের সাথে বসেই সিদ্ধান্ত নেব। আমি মনে করি একক কোনো সিদ্ধান্ত কল্যাণ বয়ে আনে না। এ বিষয়ে আমার একটা রূপরেখা রয়েছে। সর্বপ্রথম সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করব। আমি তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরব। এ নিয়ে আমরা আগামী সপ্তাহের ভিতরেই বসব। এর পরে ক্যাম্পাসের সকল দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন সমূহ ও আমাদের ছাত্র সমন্বয়ক যারা আছে তাদের নিয়ে আলোচনা করব। সকলের সাথে কথা বলেই একটা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে কাজ শুরু করব।’
বিগত দিনের ছাত্র রাজনীতির ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে রাবি উপাচার্য বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ও বিরুদ্ধে যে মতামত তৈরি হয়েছে এটাকে আমার কাছে রাজনীতির বিরুদ্ধে মতামত নয় এটি অপরাজনীতির বিরুদ্ধের মতামত। আমাদের দীর্ঘ যে রাজনৈতিক চর্চা ছিল এটাকে কোনোভাবে রাজনীতি বলা যায় না। এটা মাফিয়াতন্ত্র এবং সিন্ডিকেট। ছাত্ররা রাজনীতি বন্ধের কথা বলে এটা তাদের উপরে হওয়া নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলে। এসব বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে এসে একটা বিরতির পরেই রাকসুর নির্বাচন কর্মপন্থায় আসব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরে প্রশাসন তরফ থেকে কোনো চাপ সৃষ্টি করা হবে না। যদি কোনো প্রকার চাপ সৃষ্টি হয় শুধু আমার কান পর্যন্ত পৌঁছে দিলেই হবে। আমি এ গুলো বরদাস্ত করব না। আপনারা আমাদের ইতিবাচক-নেতিবাচক সংবাদ দেশে ছড়িয়ে দেবেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘কিছু প্রকল্পে সীমিত পরিসরে কাজ চলছে, আবার কিছু জায়গায় বন্ধও রয়েছে। কোনো নির্মাণ কাজ বিষয়ে অনিয়মের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তা যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া কামারুজ্জামান হলে দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে আমরা আবারো বসব।’
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলে সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রাধ্যক্ষের বিরূপ মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ওইদিনের তার বক্তব্যের রেকর্ডটি পুরোপুরি শুনতে চেয়েছিলাম। তবে, এখনো সে বক্তব্যটা শোনা সম্ভব হয়নি। তবুও আমি বলছি পরবর্তীতে আর কখনো এমন পরিবেশ যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি।’
এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নোত্তরে উপাচার্য ক্যাম্পাসে রাজনীতির গুণগতমানের উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট নিরসন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সুচিকিৎসা, আবাসিক হলগুলোতে আসন বণ্টন ও সেখানে খাবারের মান উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক অবায়দুর রহমান প্রামাণিক, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী নগরীতে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








