জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ১৬ মার্চ সকালে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পর নিহত শারমিন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ওইদিন রাতে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহত শারমিন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজ–এর অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন তারা বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। পরে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে শারমিন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমিনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমিন গুরুতর অসুস্থ বলে বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল শারমিনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শারমিনের কপালের ডান পাশে ও মাথার ওপর গভীর কাটা ও রক্তাক্ত জখম ছিল।
এর আগে রোববার বিকেলে আশুলিয়া থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১–২২ (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত শারমিন জাহান কচুয়া উপজেলা–র তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। আর তার স্বামী ফাহিম আল হাসান মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








