মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাত সংঘর্ষ থেকে জীবন বাঁচাতে আবারও দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্য টেকনাফে পালিয়ে এসে বিজিবির কাছে আশ্রয় নিয়েছে।
গত ২ দিনে মিয়ানমারের বিজিপি ও সেনা সদস্যরা ধাপে ধাপে তারা টেকনাফে পালিয়ে আসে। এর মধ্যে গত বুধবার সকালে ২০ জন এবং বৃহস্পতিবার ১১৯ জন মিয়ানমার সেনা ও বর্ডার গার্ড পুলিশ বিজিপি সদস্য আশ্রয় নিয়েছে।
বিগত বেশ কিছু দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইনের সীমান্ত শহর মংডু টাউনশীপ দখলে নিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি সাথে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মংডু জেলার অধিকাংশ এলাকা ইতোমধ্যেই আরাকান আর্মির দখলে চলে এসেছে।
এখন শুধু মংডু টাউনশীপ দখলের লড়াই চলছে। সীমান্তের একাধিক সুত্র মতে আরাকান আর্মি মংডু টাউনশীপ ঘিরে ফেলেছে। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা প্রকম্পিত হচ্ছে। যুদ্ধে কুলিয়ে উঠতে না পেরে মিয়ানমারের সেনা ও বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সুত্র মতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন ধাপে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং,শাহপরীর দ্বীপ ও নাজিরপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা নাফ নদী পার হয়ে অনুপ্রবেশ করে। পরে তাদেরকে নিরস্ত্র করে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা হেফাজতে নেন।
কিন্তু এ বিষয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান নতুন করে মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্য এপারে আশ্রয় নিয়েছে বলে শুনেছি। তারা বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের হেফাজতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্তক অবস্থানে আছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি’র) অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্তের স্থল ও জলসীমায় সার্বক্ষণিক বিজিবির সদস্যরা টহল দিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি’র সদস্যরা প্রস্তুত।








