রাজধানীর দক্ষিণখান বাজারে দক্ষিণখান ও উত্তরখান বাসীর আয়োজনে রাস্তার উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করা ও দুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে হাজারও মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী তাদের বক্তব্যে নানা অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। এসময় দ্রুত রাস্তার দুর্ভোগ নিরসন না হলে উত্তর সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও করা হবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘অসুস্থ্য রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা চাই, ড্রেনের পানিতে সাতার কাটতে চাই না, এই ভোগান্তির শেষ কবে’- এমন ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন হাজারো মানুষ।
মানববন্ধনে দক্ষিণখান উত্তরখান সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক ইয়াছিন রানা বলেন, ২০১৬ সালে এই এলাকা ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় আসার পর থেকে পরিপূর্ণরুপে উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল। সিটি নির্বাচনের ছয় বছর পরে এসেও এখানের চিত্র বদলায়নি। বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়, হাটার মত অবস্থা থাকে না। সড়ক খনন নীতিমালা না মেনে সব রাস্তা এক সাথে কাটায় স্বাভাবিকভাবে মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। অফিস করতে উত্তরা বা বিমানবন্দর যেতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেটে পাড়ি দিতে হয়।
১০ টাকার অটো ভাড়া ৫০ টাকা নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় কোনো গাড়িই চলাচলের সুযোগ নেই। বৃষ্টি হলেই রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত বুধবার ৯ অক্টোবর দক্ষিণ খান বাজারে ঈদগাহ মাঠের সামনে একজন গর্ভবতী মহিলা হেটে ক্লিনিকে যাবার সময় রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। রোগীদের হাসপাতালে নিতে এম্বুলেন্স এই এলাকায় ঢোকার মত রাস্তা নেই। এই এলাকায় সিটি করপোরেশনের কেউ পরিদর্শনেও আসেন না। তারা উত্তরা, গুলশান, মিরপুরেই শুধু পরিদর্শন করেন। তাদের কাছে জানতে চাই, উত্তরা, গুলশানের বাসিন্দারা এ গ্রেডের নাগরিক আর দক্ষিণ খান উত্তরখানের বাসিন্দারা সি গ্রেডের নাগরিক হিসেবে কেন তারা মূল্যায়ন করছেন, তা স্পষ্ট করতে হবে।
মানববন্ধনে দক্ষিণখান উত্তরখানের জনগণ পক্ষে ৭টি দাবি তুলে ধরেন সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক ইয়াছিন রানা। দাবিগুলো হল:
১. কাজের গতি যেকোন উপায়ে দ্রুত বৃদ্ধি করা।
২. জরুরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো অগ্রধিকার ভিত্তিতে লোকবল বৃদ্ধি করে চলাচল উপযোগী করা।
৩. যেসব রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর একটি টাইম সিডিউল দিয়ে দিতে হবে, কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে এটা জানিয়ে প্রত্যেক রাস্তায় তা লিখে টাঙিয়ে দিতে হবে।
৪. যে রাস্তার কাজ যে ঠিকাদার পেয়েছে সে ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকানা যোগাযোগের নাম্বার জানিয়ে দিতে হবে।
৫. রাস্তার কাজের মান নিয়ে সাধারণ জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে এই বিষয়ে সঠিক তদারকি করতে হবে।
৬. নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চলতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার কাজ ভালো মানের উপকরণ দিয়ে করার আদেশ জারি করতে হবে।
৭. কোন ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ না করলে কিংবা অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মানববন্ধনে দক্ষিণ খান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খলিল মোল্লা বলেন, আমাদের দুর্ভোগ ভোগান্তি নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের কোন মাথাব্যাথা আছে বলে মনে হয় না। তাহলে ভোগান্তি নিরসন হচ্ছে না কেন। সকল রাস্তা একই সময়ে কেটে ফেলা কোন নীতিমালার মধ্যে পড়ে তা জানতে চান তিনি।
আনোয়ার হোসেন জমিদার বলেন, পদ্মা নদীতে যদি সেতু করা যেতে পারে তাহলে দক্ষিণ খান ও উত্তর খানের রাস্তা করতে এতো দেরি হবে কেন। ড্রেনের পাইপ বসানোর পর কিউরিংয়ের জন্য ২৯ দিন রাখার কথা থাকলেও ৪, ৫ মাস এভাবেই ফেলে রাখা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে তা জানতে চান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ ইসলাম বলেন, আমার বাবা স্ট্রোক করার পর কোন এম্বুলেন্স পাইনি। মটর সাইকেলে দুই জনের মাঝে বসিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়েছিলাম কিন্তু বাঁচাতে পারিনি।
মুক্তাদির মুন বলেন, আমার বাবা অসুস্থ হবার পর আমরা দুই ভাই কোলে করে কিছু রাস্তা রিকশায় করে কসাই বাড়ি রেললাইন পার হই। এরপর উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেলে নেয়ার পথে বাবা মারা যান।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দারুল উলুম মাদরাসা মসজিদের খতিব গিয়াস উদ্দিন মাদানী, ফয়সাল হোসেন, বারিকুল ইসলাম শোভন, সাজ্জাদ হোসাইন, এহসানুল হক শোভন, মোক্তদির মুন, মামুন হোসেন জমিদার, জয়নাল আবেদিন অনিক, সাইদুল ইসলাম সুমন, মুফতি খায়রুল হোসেন, মুফতি মাসুদুর রহমান, সালাউদ্দিন, দক্ষিণ খান ও উত্তর খানের ব্যবসায়ীবৃন্দ।







