ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল ও ৬ সাংবাদিকের নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাঘাইছড়ির বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
সোমবার সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও সমাবেশে এ দাবি জানান তারা।
মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন, সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল বারিসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে কাঁটা হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। এই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে সমাজের প্রভাবশালীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছে। অবিলম্বে এই আইন বাতিল ও রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-ঢাকাসহ সারাদেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই আইনে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ডিসি বাংলো পার্ক চত্বরে অবস্থিত ‘পাইরেটস রেস্টুরেন্ট’ নিয়ে প্রতিবেদন করায় নাজনীন আনোয়ারের দায়ের করা একটি মামলায় গত ৭ জুন দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ফজলে এলাহীকে গ্রেফতার করে রাঙামাটির কোতয়ালি থানা পুলিশ, পরদিন জামিনে মুক্তি পান তিনি। এই গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব থাকায় আরো পাঁচ সাংবাদিক দীপ্ত টিভির বিশেষ প্রতিনিধি বায়েজিদ আহমেদ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সিনিয়র রিপোর্টার অনির্বাণ শাহরিয়ার,এখন টিভির খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি দিদারুল আলম, জাগো নিউজ এর রাঙামাটি প্রতিনিধি সাইফুল হাসান এবং দৈনিক বণিকবার্তা ও সারাবাংলার রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রান্ত রনিসহ অজ্ঞাতনামা আরো অনেককে আসামী করে ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে, চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইবুনালে ১৪ সেপ্টেম্বর পৃথক আরেকটি মামলা করেন নাজনীন আনোয়ার। এই মামলাতেও প্রধান আসামী করা হয় ফজলে এলাহীকে। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে বাদী এবং তার মা (সাবেক এমপি ফিরোজা বেগম চিনু) সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপদস্থ হয়ে মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৩, ২৫, ২৬, ২৯, ৩১, ৩৪, ৩৫ ও ৩৭ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।







