এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
হুমায়রা আসগরের মৃত্যুতে স্বাভাবিক কোনো কারণ দেখছেন না পরিবার। পাকিস্তানি এই অভিনেত্রীর বাবা বলছেন,“আমার মেয়েকে কেউ হত্যা করেছে”।
হুমায়রার মৃত্যুতে শোকাহত বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, তাদের মেয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক কোনো কারণে ঘটেনি। মেয়ের মৃত্যুর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে, তার বাবা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—হুমায়রাকে হত্যা করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়রার বাবা বলেন, “ও যেভাবে উপুড় হয়ে পড়ে ছিল, তাতে বোঝা যায়, এর পেছনে এমন কেউ রয়েছে যার ভয়-ভক্তি নেই, যার মনে আল্লাহর ভয় নেই।”
হুমায়রার মৃত্যুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে—পরিবার নাকি মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিংবা হুমায়রা আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন, বাসা ভাড়াও দিতে পারছিলেন না বলে খবর বের হয় তখন। এসব খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে প্রতিবাদ করেছেন তার পরিবার।
হুমায়রার বাবা ডা. আসগর বলেন, “আমি করাচি যাইনি, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে মেয়ের সঙ্গে ভয়ংকর কিছু হয়েছে। সে উপুড় হয়ে পড়েছিল, দরজাগুলোর অবস্থাও সন্দেহজনক ছিল। যে করেছে, তার কোনো ভয়-ভক্তি নেই।”
মেয়ের আর্থিক সংকটে থাকার গুজব সরাসরি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ও ভালো আয় করতো, অনেক দামি জামাকাপড় তার ঘরে পাওয়া গেছে যেগুলো সে পরেওনি। যদি কোনো বিল বকেয়া থেকে থাকে, তাহলে সেটা তার মৃত্যুর পরের সময়ের হতে পারে।”
তিনি জানান, হুমায়রা দরিদ্র শিশুদের নিয়ে কাজ করতেন এবং কখনো পারিবারিক সম্পত্তির দাবিও তোলেননি। “সে ছোট খাটো কিছু নিয়ে কথা বলার মানুষ না,” বলেন তিনি।
হুমায়রার মা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। “সে বলেছিল তার মোবাইল সিম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু বিস্তারিত বলেনি। এরপর থেকে ফোন বন্ধ। আমি বারবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু করাচিতে আমাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।”
তিনি জানান, তখন তিনি ভেবেছিলেন হয়তো হুমায়রা বিদেশে (সম্ভবত তুরস্কে) চলে গেছে, তাই অপেক্ষায় ছিলেন। “অজানা এক শঙ্কা কাজ করছিল। তারপর হঠাৎ একদিন টেলিভিশনে খবর দেখে স্তব্ধ হয়ে যাই।”
শোবিজে কাজ করায় পরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিলো না হুমায়রার, মিডিয়ার এমন খবরকেও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন প্রয়াত অভিনেত্রীর বাবা-মা। ডা. আসগর বলেন, “হুমায়রা ছোট থেকেই শিল্পকলার প্রতি আগ্রহী ছিল। সে এনসিএ-তে পড়াশোনা করেছে, পরে বিনোদন জগতে কাজ শুরু করে। আমরা ওর সিদ্ধান্তে সবসময় সমর্থন দিয়েছি।”
পরিবার আরও জানান, হুমায়রার সঙ্গে তাদের কোনো বিচ্ছেদ হয়নি, বরং সে প্রতি কয়েক মাস পর পর বাড়িতে (লাহোর) আসত এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।
১৯৯২ সালের ১০ অক্টোবর লাহোরে জন্ম হুমায়রা আসগর আলীর। পাকিস্তানে জাতীয় চারুকলা কলেজ (এনসিএ) থেকে ফাইন আর্টস, টিভি ও ফিল্মে স্নাতক এবং পরবর্তীতে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রথম সারির ডিজাইনারদের সঙ্গে কাজ করেন। পরে অভিনয়ে যুক্ত হন। ২০১৫ সালের ‘জালাবি’ সিনেমায় অভিনয় করেন এবং ২০২২ সালে তামাশা ঘর রিয়েলিটি শো’তে অংশ নিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান।
একজন চিত্রশিল্পী, ভাস্কর এবং ফিটনেস-প্রেমী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন হুমায়রা। ইনস্টাগ্রামে ৭ লাখের বেশি অনুসারীকে তিনি নিয়মিত তার সৃজনশীলতা ও স্বাস্থ্যচর্চার যাত্রা ভাগ করে নিতেন।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার সর্বশেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখা যায়। সে বছর অক্টোবরের শুরু থেকেই তার ফোনটিও বন্ধ হয়ে যায়। গেল ৮ জুলাই করাচির একটি ফ্ল্যাট থেকে তার পঁচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, গেল বছরের অক্টোবরেই তার মৃত্যু হয়েছে। ১১ জুলাই লাহোরে তার দাফন হয়। তার মৃত্যুর আসল কারণ জানতে কাজ করছে পুলিশ। –আরএওয়াই








