এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
শীত আসলেই চলে আগে ঠাণ্ডা জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা। এমনটি হয় আমাদের আশেপাশের তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য। আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব যাদের ওপর বেশি তাদের এসময় আরও সচেতন থাকা জরুরি।
ভারতীয় চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, এখন সকালের দিকে গরম আর রাত পড়তেই হালকা শীত শীত ভাব চলে এসেছে। এমন মরসুমে কিন্তু ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা খুব বেশি। সন্ধের পর থেকেই শিশির পড়তে শুরু করে, ঠান্ডা হাওয়া দেয়, তাই এখন থেকেই একটা স্টোল কিংবা মাফলার সঙ্গে রাখুন।
তিনি বলেন, ট্রেন, বাস কিংবা অটোতে জানলার ধারে বসলে কান-গলা ভাল করে ঢেকে বসুন। বাইকে যারা যাতায়াত করেন, তারা গরমের পোশাক পরে, গলা ঢেকে বাইক চালান। যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এই সময়টা খুব সাবধানে থাকবেন। সঙ্গে অবশ্যই ইনহেলার রাখুন। খুব বেশি শ্বাসকষ্ট হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। দেরি করলে কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের বেশি সাবধানী হতে হবে।
এসময় যা করণীয়:
১) এই সময়ে কখনও কখনও ফ্যান, এসি না চালালে গরম লাগে, আবার চালালে ঠান্ডা লাগে। গরম লাগছে বলে খুব জোরে ফ্যান চালাবেন না ভুলেও, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে যেন না করা হয়, সে দিকেও সতর্ক থাকুন।
২) যাদের ঠান্ডা লাগার ধাত রয়েছে, তারা এই মরসুমে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করবেন না ভুলেও। শীতের সময়টা হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করাই ভাল। ভোরবেলা হোক কিংবা অফিস থেকে ফিরে যখনই গোসল করবেন, গরম পানি দিয়ে করুন।
৩) শীতের সময়ে অল্প সর্দি-কাশি হলেও আগে থেকেই লবণ পানির গার্গেল শুরু করুন। গরম পানির ভাপ নিন নিয়মিত।
৪) বাড়িতে কারো সর্দি-কাশি হলে শিশুদের তার কাছে যেতে না দেয়াই ভালো। অফিসের ভিতরে এসিতেই অনেকটা সময় কাটে অনেকের। অফিসে কারো সর্দি-কাশি হলে নিজেকে সাবধানে রাখুন। প্রয়োজনে তাকে মাস্ক পরতে বলুন বা নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন। হাত না ধুয়ে মুখ-চোখে কিংবা নাকে হাত দেবেন না। বাইরে বেরোলে মাঝেমাঝেই হাত স্যানিটাইজ করুন।
৫) এই সময়ে পুষ্টিকর খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ডায়েটে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, যেমন লেবু, কমলালেবু, আমলকি বেশি করে রাখতে হবে। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভিটামিন সি সাহায্য করে।
সূত্র: আনন্দবাজার







