যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এই কর্মসূচির ধাপ ও শর্তাবলী তুলে ধরা হয়।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক জামানত। নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে এই জামানত নেওয়া হয়, যাতে তারা ভিসার শর্ত—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নির্ধারিত সময়সীমা—মেনে চলেন।
দূতাবাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে ‘pay.gov’-এর একটি সরাসরি লিংকসহ বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে। ভিসাধারীদের নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।
দূতাবাস জানায়, ভিসার সব শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ না করা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরে আসা।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম’-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা আর্থিক জামানত জমা দিতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান, তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসার শর্ত ভঙ্গের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।


