ভারতে ১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা র’ প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থার প্রথম প্রধান হিসাবে নিযুক্ত হন রামেশ্বর নাথ কাও আর শঙ্করণ নায়ার হন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড।
এই দুজন ছাড়াও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি থেকে ২৫০ জনকে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ে বদলি করা হয়।
বিবিসি জানায়, ১৯৭১ সাল থেকে রামনাথ কাও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে র’ এজেন্ট বেছে নেয়া শুরু হয়। কিন্তু ১৯৭৩ সালের পর ওই সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়া বদলে যায়। শুরু হয় সরাসরি নিযুক্ত কর্মকর্তাদের এক কঠিন প্রতিযোগিতা। তাদের বেশ কয়েকটি পরীক্ষা পার করতে হয়।
র’-এর বিশেষ সচিব পদ থেকে অবসর নেওয়া রানা ব্যানার্জী বলছিলেন, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে এরকম আরও কয়েকজনকে নেওয়া হয়েছিল র’-এ যাদের নিয়ে স্পেশাল সার্ভিস গঠন করা হয়। পরে অজ্ঞাত কারণে এভাবে নিয়োগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
গুপ্তচর সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান বিক্রম সুদ তার বই ‘দ্য আনএন্ডিং গেম’-এ লিখেছেন, যতদিনে কোনও ব্যক্তি আইপিএস অফিসার হচ্ছেন, ততদিনে তার বয়স মোটামুটি ২৭ বছর ছুঁতে যাচ্ছে। এর তিন বছর পর র’-এ যোগ দিলে তার বয়স তখন ৩০ বা তার বেশি। ওই বয়সে নতুন কোনও পেশায় মানিয়ে নেওয়া যে কারও পক্ষেই কঠিন। এই বয়সকালে খুব বেশি ঝুঁকি নেয়ার পরিস্থিতিতে থাকে না কেউ।
নিযুক্তির জন্য যাদের বেছে নেয়া হল, তাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যেকোন একটি বিদেশি ভাষাও শিখতে হয় তাদের।
প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পরে তাদের ফিল্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে রাখা হয় যেখানে তাদের শেখানো হয় যে চরম শীতে কীভাবে কাজ করতে হয়, কীভাবে অন্য দেশে অনুপ্রবেশ করা যায়, কীভাবে ধরা পড়া এড়ানো যায় এসব।
বিশ্বের সব দেশই বিদেশে তাদের দূতাবাসগুলোকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করে।
র’ এজেন্টদের প্রায়ই বিদেশে ভারতীয় দূতাবাসে পোস্টিং দেয়া হয়। অনেক সময় ভুয়া নাম দিয়ে তাদের বিদেশে পাঠানো হয়। নানা প্রশিক্ষণ বা নাম পরিচয় বদলের পরেও পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার একটা ভয় গুপ্তচরদের সবসময়ে থাকে। পেশাদার গুপ্তচরদের খুব তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করে ফেলা যায়।
ভারতীয় এয়ালাইন্সের আইসি ৮১৪ বিমানটি হাইজ্যাক করে কান্দাহারে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ১৯৯৯ সালের। ওই বিমান ছিনতাইয়ের ফলে ভারতকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তিন বিপজ্জনক সদস্যকে মুক্তি দিতে হয়।
সেই ঘটনায় র’-কে মুখ বুজে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়েছিল। তৎকালীন র’ প্রধান এ এস দুলাতকে নিজে মাসুদ আজহার এবং মুস্তাক আহমেদ জারগারকে বিমানে শ্রীনগর থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসতে হয়। সেখান থেকে যশবন্ত সিং তাদের সঙ্গে করে কান্দাহারে নিয়ে যান।
যেভাবে আইসি-৮১৪ বিমানটিকে অমৃতসর থেকে লাহোর যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।








