বর্তমানে সারা বিশ্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ সদস্যরা অনলাইনে খেলা যায় এমন ভিডিও গেমে তাদের মনোযোগ বৃদ্ধি করে চলেছে। এর প্রধান কারণ হল, এসব গেমিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়ে থাকে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ডেলয়েটের মাদক বিশ্লেষক বেঞ্জামিন শুল্টজ ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বৈঠকে বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায় অনলাইন গেমিংয়ের ভূমিকার প্রতি আরও বেশি মনোযোগ আনতে, কাউন্সিল অফ ইউরোপের পম্পিডো গ্রুপ, যারা আন্তর্জাতিক মাদকের সমস্যা নিয়ে কাজ করে থাকে তারা মেক্সিকো সিটিতে ১৯ এবং ২০ ডিসেম্বর একটি ফোরামের আয়োজন করে। সেখানে বলা হয়, “গ্র্যান্ড থেফ্ট অটো” বা “ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ারক্রাফ্ট” এর মতো অনলাইন গেমগুলোকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা বিচক্ষণতার সাথে মাদক বিক্রি করে থাকে।
এর ফলে মাদকের জন্য জনপ্রিয় ডার্কনেট এর জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে। শুল্টজ বলেছেন, এটি আইন প্রয়োগকারীদের জন্য বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছে কারণ ভিডিও গেমগুলো খুবই অনিয়ন্ত্রিত। অনলাইন গেমগুলোতে, ব্যবহারকারীরা প্রায় যে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারে, অপরিচিতদের সাথে কথা বলতে পারে এবং এতে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। গেমগুলোর অভ্যন্তরীণ মেসেজিং সিস্টেম বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন, বিশেষ করে যখন তারা ইমোজির মাধ্যমে যোগাযোগ করে। সম্পূর্ণ কথা একটি মাত্র ইমোজির সাহায্যে করা যেতে পারে।
এই রকম বেশ কিছু ইমোজি সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে আইন প্রয়োগকারীরা। যেমন, বৈদ্যুতিক প্লাগ ইমোজির অর্থ “মাদক বিক্রেতা”। একটি ছোট পাম গাছের অর্থ “গাঁজা” বা “কোকেন”। বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে মেক্সিকান পুলিশের যখন ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী তিনজন কিশোর “গারেনা ফ্রি ফায়ার” খেলার সময় মাদক বিক্রির জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। অনলাইনে মাদক বিক্রির জন্য তাদের প্রতি সপ্তাহে ২০০ ডলার দেওয়া হত। পরে তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুল্টজ বলেন, ইউএস-মেক্সিকো সীমান্তের কাছে এগুলো তেমন একটা বিষয় না হলেও ইউরোপে এটি অস্বাভাবিক। সেখানে ভিডিও গেমগুলো খুবই অনিয়ন্ত্রিত, সেগুলো যদি পর্যবেক্ষণ করা হয় না তাহলে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কাউন্সিল অফ ইউরোপের পম্পিডো গ্রুপের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি টমাস কাট্টাউ বলেছেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং একটি ফোরাম থাকা দরকার যেখানে আমরা আইন প্রয়োগকারী এবং সরকারকে ঘটনা সম্পর্কে সচেতন করতে পারি। মেক্সিকো হল সেই দেশ যার এই ইস্যুতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে এনেছে। এখন আমরা যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশে একই রকম ঘটনা ঘটতে দেখেছি।
শুল্টজ এবং কাট্টাউ অনলাইন গেমগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে পিতামাতা এবং তাদের সন্তানদের উভয়ের জন্যই ভাল শিক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি নজরদারি সফটওয়্যার উন্নত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করার জন্য গেম ডেভেলপারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।







